এশিয়ান গেমস শুরু হতে প্রায় তিন সপ্তাহের মতো সময় বাকি। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই জাপানের নাগোয়ায় মাঠের বাইরের বিতর্কে উত্তাল ক্রিকেটবিশ্ব। গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে দলগুলোর আবাসন এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্রিকেটের পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তানের মতো দেশগুলো।
জাপানের নাগোয়ার ছোট শহর নিসশিন কোরোগি স্পোর্টস পার্কে বসবে এবারের এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্ট। কয়েক মাস আগেও এটি ছিলো বেসবল মাঠ। গত মার্চে এটিকে ক্রিকেটের উপযোগী করে তোলা হয়। ২,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এ ভেন্যুটি আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইস্ট এশিয়া প্যাসিফিক কোয়ালিফায়ারের ম্যাচ ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হওয়ার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তাড়াহুড়ো করে বসানো হাইব্রিড পিচ নিয়ে এরই মধ্যেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল বা এসিসি।
সমস্যার শুরু ভেন্যুতে, কিন্তু শেষটা আরও লজ্জাজনক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের জন্য ভেন্যুতে কোনো স্থায়ী ড্রেসিংরুমই বানাতে পারেনি আয়োজকরা। ক্রিকেটারদের ভরসা এখন কাপড়ের তৈরি অস্থায়ী তাঁবু। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ওয়াশরুম অব্যবস্থাপনা। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ড্রেসিংরুম থেকে টয়লেটের দূরত্ব প্রায় ৫০০ মিটার।
অবকাঠামোর এ দৈন্যদশা চরম রূপ নিয়েছে আবাসনেও। এবার কোনো ডেডিকেটেড অ্যাথলেটস ভিলেজ না থাকায় ক্রিকেটারদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে ভেন্যু থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের হোটেলের ছোট ছোট কক্ষে। রুমগুলো এতোটাই সংকীর্ণ যে, দুজন ক্রিকেটারের বিশাল আকৃতির কিটব্যাগ রাখার পর খেলোয়াড়দের দাঁড়ানোর জায়গাটুকুও অবশিষ্ট থাকছে না।
সংকট সামাল দিতে জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী নাওকি অ্যালেক্স মিয়াজি জানিয়েছেন দলগুলো চাইলে নিজেদের পছন্দমতো হোটেলের ব্যবস্থা করতে পারবে।
এর আগেও বেশ কয়েকবার এশিয়ান গেমসের আয়োজক হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে জাপানের।মাঠের লড়াই শুরুর আগে এই আবাসন ও ভেন্যু জটিলতা কাটিয়ে আয়োজকরা কতটা সফল হতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





