৪০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের আয়োজন করছে মেক্সিকো। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রথম দল হিসেবে চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিতও করে ফেলেছে স্বাগতিকরা। স্টেডিয়ামজুড়ে উচ্ছ্বাস, রাস্তাজুড়ে উদযাপন, রীতিমতো ফুটবল উৎসবে মেতে উঠেছে দেশটি। তবে এ আনন্দমিছিলের আড়ালে রয়েছে আরেকটি অন্ধকার মেক্সিকো। যেখানে হাজারো পরিবার এখনও খুঁজে ফিরছে তাদের হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের।
সেই গল্পেরই একটি নাম নর্মা লাগুনা। যার মেয়ে ইদালি হুয়াচে ছিলেন সীমান্ত শহর সিউদাদ হুয়ারেজের এক নারী ফুটবল দলের স্ট্রাইকার। ২০১০ সালে একটি ম্যাচ খেলার দুই দিন পর নিখোঁজ হন ১৯ বছর বয়সী ইদালি। নিখোঁজ হওয়ার দুই বছর পর একটি শুকনো নদীখাত থেকে পাওয়া যায় তার দেহাবশেষের অংশ। কিন্তু তাতেও শেষ হয়নি পরিবারের দুর্ভোগ। এ ঘটনার ১৪ বছর পর নিখোঁজ হয়ে যায় নর্মার ১৭ বছর বয়সী নাতি এডগার রুইজও।
তবে আজও মেয়ের ১৪ নম্বর জার্সিটি আগলে রেখেছেন নর্মা। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ তাকে মনে করিয়ে দেয় ফুটবলপাগল মেয়েটির কথা। যে আজ বেঁচে থাকলে হয়তো বিশ্বকাপের উন্মাদনায় শামিল হতো। মেয়ের স্মৃতি আজও আঁকড়ে পড়ে আছেন মা।
এডগার রুইজও বলেন, ‘দুঃখের বিষয় হচ্ছে মানুষ বলে, অনেক বছর তো পেরিয়ে গেছে! কিন্তু আমাদের জন্য সময় থেমে আছে। মনে হয় যেন ঘটনাটা গতকালই ঘটেছে। একজন মায়ের কাছে সময় কখনও এগিয়ে যায় না।’
মেক্সিকোতে বর্তমানে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ। স্বজনদের অভিযোগ, ধীর তদন্ত, প্রশাসনিক জটিলতা এবং পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে অনেক পরিবারকে অনুসন্ধানে নামতে হয়। বিশ্বকাপের উদ্বোধনের দিনও নিখোঁজদের স্বজনেরা রাস্তায় নেমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ফুটবল বিশ্বকে এক করেছে, আনন্দে ভাসিয়েছে মেক্সিকোকে। কিন্তু নর্মা লাগুনার মতো অসংখ্য মায়ের কাছে সময় এখনও থমকে আছে। বিশ্বকাপের আলো ঝলমলে মঞ্চের পাশেই তাই রয়ে গেছে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের খোঁজে এক দীর্ঘ, বেদনাময় অপেক্ষার গল্প।





