ফুটবল উন্মাদনায় আর্জেন্টিনায় বাড়ছে হার্টের রোগী

জয় উদযাপন করছে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা
জয় উদযাপন করছে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা | ছবি : সংগৃহীত
0

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কোটি ভক্তের উন্মাদনা। চলতি আসরে বেশ কিছু উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনা। অতি উত্তেজনা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার চিকিৎসকরা। এরই মধ্যে দেশটিতে বেড়েছে হৃদরোগীর সংখ্যাও।

ভয়, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলাকালে এগুলোর সঙ্গে দলটির সমর্থকদের যেন গড়ে উঠেছে সখ্যতা। ম্যাচের শেষ দিকে বারবার ফিরে আসার গল্প লিখলেও এর আগে কঠিন সময় পার করেন সমর্থকরা। আর এ কারণে বিশ্বকাপের মাঝে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে কয়েকগুণ!

খোদ আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে হৃদরোগীর সংখ্যা। দেশটির কার্ডিওভাসকুলার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ড. অ্যালান সিগাল জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে ম্যাচের সময় তাদের হাসপাতালে হৃদরোগ-সংক্রান্ত জরুরি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

আরও পড়ুন

আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস কার্ডিওভাসকুলার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালে হৃদরোগ সংক্রান্ত জরুরি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কেউ কেউ উপসর্গ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অর্থাৎ ম্যাচ চলাকালীন চিকিৎসার জন্য আসেন। আমরা সবসময় এটা করতেই পরামর্শ দেই। আবার কেউ কেউ ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ফলে হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তাদের শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে যায়।’

শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের কাছে প্রায় হারতে বসেছিল আর্জেন্টিনা। প্রথমে দুই গোল হজমের পর শেষ সময়ে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ জিতে নেয় লিওনেল মেসির দল। সেদিন অল্প সময়ের ব্যবধানে বেশ কয়েকজন হৃদরোগী ভর্তির কথা জানান এ চিকিৎসক।

আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস কার্ডিওভাসকুলার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক বলেন, ‘আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের দিন আমাদের হাসপাতালে একসঙ্গে এমন তিনটি অ্যাওটিক ডিসেকশনের ঘটনা আসে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সাধারণত আমাদের প্রতিষ্ঠানে মাসে সর্বোচ্চ এমন দুটি রোগী আসে। সেখানে এক বিকেলেই তিনটি ঘটনা ঘটেছে, যা সত্যিই বিরল।’

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তারা বিশ্বকাপের উত্তেজনা উপভোগ করলেও নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে যেন সতর্ক থাকে। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

জেআর