বিশ্বকাপে না খেলেও ফিফা থেকে কত কোটি টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ?

বিশ্বকাপ ট্রফি
বিশ্বকাপ ট্রফি | ছবি : সংগৃহীত
0

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহোৎসব ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026)। এই মেগা টুর্নামেন্টের মূল মঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে না পারলেও আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই ফান্ডের আইনি অধিকার ও অর্থ বণ্টনের সম্পূর্ণ বিবরণী নিয়ে তৈরি বিশেষ প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো (Bangladesh to receive 8 million USD from FIFA forward project despite not qualifying for World Cup)।

আরও পড়ুন:

অলাভজনক ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে ফিফার আদর্শ (FIFA non-profit sports organization business model)

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, বিশ্বকাপের মূল পর্বে কোয়ালিফাই না করেও বাংলাদেশ কেন টাকা পাবে? আসলে ফিফা কোনো বাণিজ্যিক বা মুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি অলাভজনক ক্রীড়া সংস্থা (FIFA non-profit sports organization)। বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে শুরু করে টেলিভিশন স্বত্ব (television broadcast rights), স্পনসরশিপ ও টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় হয়, তা শুধু অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয় না।

বিশ্বজুড়ে ফুটবলের সমতা ও কাঠামোগত উন্নয়নের (football infrastructure development) জন্য ফিফা এই আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ তাদের অন্তর্ভুক্ত ২১১টি সদস্য দেশের মাঝে বণ্টন করে থাকে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা বাফুফে (Bangladesh Football Federation BFF) ফিফার একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ সদস্য হওয়ায় নিয়মতান্ত্রিকভাবেই এই বৈশ্বিক ফুটবল তহবিলের অংশীদার হয়।

আরও পড়ুন:

ফিফা ফরোয়ার্ড ৩.০ প্রজেক্ট ও বরাদ্দকৃত অর্থ (FIFA Forward 3.0 development fund allocation)

বাংলাদেশকে এই মোটা অঙ্কের অর্থ মূলত প্রদান করা হচ্ছে ফিফার বিশেষ ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট 'FIFA Forward' (বর্তমানে সংস্করণ ৩.০)-এর অধীনে। ফিফার অফিশিয়াল ফিন্যান্সিয়াল গাইডলাইন ও অ্যানুয়াল রিপোর্ট (FIFA official financial guidelines and annual report) অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ চক্রের মধ্যে প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য মোট ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত ডেভেলেপমেন্ট ফান্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৫ কোটি টাকারও বেশি।

এই বিশাল অঙ্কের ফান্ড বাফুফেকে মূলত দুটি প্রধান খাতে ভাগ করে দেওয়া হয়:

  • পরিচালন ও প্রশাসনিক ব্যয় (BFF annual operating costs expenditure): এই ফান্ডের মধ্য থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করা হয় ফুটবল বোর্ডের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য।
  • দীর্ঘমেয়াদী ফুটবল প্রজেক্ট (long term football development projects in Bangladesh): ফান্ডের বাকি ৩ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয় সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী ফুটবল প্রজেক্টের জন্য। যার মধ্যে রয়েছে খেলোয়াড়দের উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা, যুব একাডেমি (football youth academy) তৈরি, দেশের তৃণমূল ফুটবল (grassroots football development) এবং নারী ফুটবলের মানোন্নয়ন (women's football enhancement)।

আরও পড়ুন:

কঠোর শর্ত ও অডিটের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া (FIFA financial audit and fund clearance rules)

ফিফা থেকে এই টাকা পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠোর ও স্বচ্ছ নিয়মের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। আবেদন করলেই বাফুফে একসাথে সব টাকা তুলে নিতে পারে না। ফিফা নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও প্রকল্প অনুমোদনের পর ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা হয়।

বাফুফেকে প্রথমে তাদের সুনির্দিষ্ট ফুটবল প্রজেক্টের পরিকল্পনা এবং বাজেট ফিফার ডেভেলেপমেন্ট কমিটির (FIFA Development Committee) কাছে জমা দিতে হয়। তা ছাড়া পরিচালন ব্যয়ের অর্থও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে কিস্তিতে দেওয়া হয়।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রতি বছর স্বাধীন আন্তর্জাতিক অডিটরদের (independent international financial auditors) মাধ্যমে এই ফান্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট করা হয়, যাতে অনুদানের কোনো অর্থের অপব্যবহার না হয়। সুতরাং, বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মূল মাঠে না খেললেও, বৈশ্বিক ফুটবলের কাঠামোগত অংশীদার হিসেবে এই উন্নয়ন তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বৈধ এবং নিয়মতান্ত্রিক অধিকার রাখে।

আরও পড়ুন:

বিশ্বকাপে অংশ না নিয়েও ফিফা থেকে বাংলাদেশের অর্থ প্রাপ্তির হিসাব

একনজরে: ফিফা ফরোয়ার্ড ৩.০ প্রজেক্টের অধীনে বাফুফের মোট বরাদ্দ ও খাতভিত্তিক অর্থ বণ্টন

অর্থায়নের খাত (Funding Category) বরাদ্দের পরিমাণ (মার্কিন ডলার) বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক পরিমাণ

সর্বমোট বরাদ্দ (২০২৩-২০২৬ চক্র)

৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার

প্রায় ৯৫ কোটি+ টাকা

১. বার্ষিক পরিচালন ও প্রশাসনিক ব্যয়

প্রতি বছর ১.২৫ মিলিয়ন ডলার

প্রতি বছর প্রায় ১৫ কোটি টাকা (৪ বছরে ৬০ কোটি)

২. দীর্ঘমেয়াদী সুনির্দিষ্ট প্রজেক্ট

এককালীন ৩ মিলিয়ন ডলার

প্রায় ৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা

প্রধান ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ

তৃণমূল ফুটবলের মানোন্নয়ন, যুব একাডেমি তৈরি, নারী ফুটবলের বিকাশ এবং জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিতকরণ।

অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া ও নিয়ামক

ফিফা ডেভেলপমেন্ট কমিটির কাছে বাজেট ও পরিকল্পনা পাসের পর ধাপে ধাপে কিস্তিতে অর্থ ছাড় এবং প্রতি বছর স্বাধীন আন্তর্জাতিক অডিটরদের মাধ্যমে অডিট সম্পন্নকরণ।

মূল্যায়ন: ফিফা কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং অলাভজনক ক্রীড়া সংস্থা হওয়ায় বিশ্বকাপের আয় ২১১টি সদস্য দেশের মাঝে সমবণ্টন করে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ফিফার পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে এই কাঠামোগত উন্নয়ন তহবিল পাওয়ার সম্পূর্ণ বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক অধিকার রাখে।

বিশ্বকাপ ২০২৬ এর সব খবর সবার আগে পেতে ,ক্লিক করুন এখানে,

আরও পড়ুন:

বিশ্বকাপে না খেলেও ফিফা থেকে কত টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ (how much money bangladesh gets from fifa without playing world cup), বাফুফে ফিফা অনুদান ২০২৬ (bff fifa forward 3.0 fund details), ফিফা ফরোয়ার্ড প্রজেক্ট বাংলাদেশ বাজেট (fifa forward programme bangladesh budget), বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ফিন্যান্সিয়াল অডিট (bangladesh football federation financial audit report), ফিফা বিশ্বকাপ প্রাইজমানি বাংলাদেশ অংশ (fifa world cup 2026 prize money distribution bangladesh share)

এসআর