ম্যাচ শুরুর আগেই রীতিমতো উত্তাল অ্যানফিল্ড। স্টেডিয়ামের প্রবেশমুখে সিটির বিরুদ্ধে ‘চিটার’ বা প্রতারকের তকমা দেয়া নানা ব্যানার প্রদর্শনের পাশাপাশি স্লোগানও দেন লিভারপুল সমর্থকেরা। গ্যালারিতে ছিলো নানারকমের অপমানসূচক প্ল্যাকার্ড। জবাবে বিশাল আকৃতির অসংখ্য কলা ছাড়াও নিজেদের সমর্থনে নানা ব্যানার হাতে দাঁড়ান সিটির সমর্থকরা।
প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকেই চাপে ম্যানচেস্টার সিটি। সেটিরই সুযোগ নিতে চেয়েছিল লিভারপুল। তবে সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে তার প্রভাব পড়তে দেননি খেলোয়াড়েরা। গ্যালারির উত্তাপ ছাপিয়ে প্রথমার্ধে অবশ্য গোলের দেখা মেলেনি। প্রতিকূল পরিবেশ সামাল দিতে ধীরগতির ফুটবল খেলেছে সিটি।
বিরতির পর ম্যাচ জমে ওঠে। ভিক্টর মুনোজ ও রায়ান গ্রাভেনবার্চের প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় ঠেকান সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। অন্যদিকে, গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগ নষ্ট করেন আর্লিং হালান্ড।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় রায়ান গ্রাভেনবাখের লাল কার্ড। জেরেমি ডোকুকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার। দশজনের দলে পরিণত হয়ে চাপে পড়ে লিভারপুল। সেই সুযোগে ৬৫ মিনিটে হালান্ডের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় সিটি।
তিন মিনিট পর অবিশ্বাস্য এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বদলি খেলোয়াড় জেরেমি ডোকু। ৭৮ মিনিটে রায়ান শেরকির ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আসে তৃতীয় গোল। শেষ পর্যন্ত এই তিন গোলের দাপটে জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে সিটিজেনরা। অবশ্য এই জয়ে স্বস্তি এলেও সম্ভাব্য শাস্তির প্রশ্নে মাঠের বাইরে এখনো চাপেই থাকবে আকাশী-নীল শিবির।





