সবশেষ করোনা মহামারীর চরম সংকটের মাঝে টোকিও অলিম্পিক আয়োজন। এর ঠিক পাঁচ বছর পর আবারও বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের নজরে জাপান। এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া যজ্ঞ এশিয়ান গেমস আয়োজনের ভারটা এবার তাদের উপর। তবে বিগতে সময়ে আয়োজক হিসেবে প্রশংসা কুড়ালেও বাজেট স্বল্পতার কারণে এবার গেমস শুরুর আগে থেকেই বিতর্কে জাপান।
এতদিন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থাকলেও এবার বাস্তবে তার প্রমাণ মিলেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাওয়াএই গেমসে অংশ নেওয়া স্বাগতিক অ্যাথলেটরা বিশৃঙ্খলার শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি এই বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পায়নি খোদ স্বাগতিক দেশের অ্যাথলেটরাই।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী জাপানের পুরুষ ও নারী ক্রীড়াবিদদের একই কক্ষে বরাদ্দ দেয়ার ঘটনার পর তাদের বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জাপানের ডেপুটি শেফ দ্য মিশন হিসাশি মিজুতোরি বলেন, ‘পুরুষ ও নারী অ্যাথলেটকে একই কক্ষে রাখা, কোচের কক্ষে ক্রীড়াবিদকে রাখা বিষয়টি ঠিক নয়। আমরা যতটা সম্ভব এখন সমন্বয় ও আলোচনা করে সেসবে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। তবে সেটি করা খুব কঠিন হবে।’
আরও পড়ুন:
খরচ কমাতে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী কোনো অ্যাথলেটস ভিলেজ না বানিয়ে ১৭ হাজার খেলোয়াড়সহ কোচদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে ক্রুজ জাহাজ কোস্টা সেরেনায়। আর অ্যাথলেটদের আবাসন নিয়ে এমন বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হিসেবে বাজেট স্বল্পতার কথা জানিয়েছেন গেমসের সহ-সভাপতি।
জাপান এশিয়ান গেমসের সহ-সভাপতি ইচিরো হিরোসাওয়া বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে অ্যাথলেটদের জন্য একটি ভিলেজ তৈরি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত বদলাই। বাজেট কমাতে আমরা এবার ক্রুজ শিপ, কনটেইনার হাউজিং এবং স্থানীয় হোটেলগুলো ব্যবহার করছি।’
তবে আয়োজকদের জন্য এই সমস্যা সমাধানের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ প্রকৃতি। চলতি সপ্তাহে জাপানে টাইফুন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধ্বস হওয়ার শঙ্কা একেবারে এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই। ফলে ক্রুজে থাকা হাজার হাজার অ্যাথলেট এবং কোচদের নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
ইচিরো হিরোসাওয়া বলেন, ‘আবহাওয়া আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে মুষলধারে বৃষ্টি হলে অ্যাথলেটদের সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার আমাদের প্রস্তুতি আছে।’
এত সমালোচনা আর সংকটের মধ্যেও গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনে বেশ জোড়েসড়েই চলছে প্রস্তুতি।




