এশিয়ার ফুটবলের বড় মহাযজ্ঞ ফিফা আসিয়ান কাপের উদ্বোধনী আসরের পর্দা উঠার অপেক্ষা। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠেয় এই আসরের জন্য বাংলাদেশও অনুশীলন করেছে ২৩ সদস্যের পূর্ণ দল নিয়ে। প্রিমিয়ার ডিভিশনে গ্রুপ এ তে থাকা বাংলাদেশ দলের প্রধান রণক্ষেত্র ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার ঐতিহাসিক গেলোরা বুং কার্নো।
এই মাঠে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাওয়া আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের সবকয়টি ম্যাচ খেলবে। ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। এরপর সিঙ্গাপুর এবং গ্রুপ পর্বে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। এই আসরে গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষের থেকে র্যাংকিং এবং শক্তিমত্তায় পিছিয়ে থাকলেও দলের হামজা, ফারহান আলী ওয়াহিদ, শমিত শোমদের শক্তিমত্তা এবং একই মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার রণকৌশলই সাজাচ্ছে কোচ থমাস ডুলি।
আরও পড়ুন:
২০ সেপ্টেম্বর থেকে ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে থমাস ডুলির দল। এরই মধ্যে জিবিকে অ্যারেনার অনুশীলন গ্রাউন্ডে ঘামও ঝড়িয়েছেন হামজা, জামাল, শমিতরা। একটি নির্দিষ্ট ভেন্যুতে ব্যাক টু ব্যাক ম্যাচ খেলা যেকোনো দলের জন্যই বড় মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা। এদিকে আসিয়ান কাপের জন্য বিশেষ ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের জইসিয়া মাত্রেলিয়া ঘাস। যা ফুটবলারদের দ্রুত মুভমেন্ট এবং বল ট্র্যাকিংয়ে দারুণ সাহায্য করে। মালয়েশিয়া দলের ফুটবলাররা বেশ গতিশীল ফুটবল খেলে এবং কাউন্টার অ্যাটাকে বেশ পারদর্শী। যে কারণে ঐতিহাসিক এই ভেন্যুর ঘাস, মাটির আচরণ এবং আবহাওয়ার সাথে প্রথম ম্যাচেই মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। বাকি দুই ম্যাচ একই ভেন্যুতে হওয়ায় কৌশলগত দিক থেকে কোচ থমাস ডুলির দলকে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে।
৭৭ হাজারেরও বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠ ফুটবল বিশ্বে সংক্ষেপে জিবিকে নামে পরিচিত। ১৯৬২ সালের এশিয়ান গেমসের জন্য নির্মিত এই স্টেডিয়ামটি শুধু ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলের প্রাণকেন্দ্রই নয়, বরং গোটা এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এবং প্রভাবশালী স্টেডিয়াম হিসেবে স্বীকৃত।
হামজা চৌধুরী, ফারহান আলীদের মতো প্রবাসী তারকাদের শক্তির সঙ্গে কোচের কৌশলে ইন্দোনেশিয়ার এই ঐতিহাসিক ভেন্যুতে প্রতি ম্যাচে বাংলাদেশ লাল-সবুজের বিজয় কেতন ওড়াতে পারবে কি না সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশের ভক্ত সমর্থকরা।




