ম্যাচের বয়স ঠিক ২০ মিনিট পেরোলেই রেফারির বাঁশিতে আচমকাই থমকে যায় মাঠের টানটান উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো আর কানাডার তীব্র গরম ও আর্দ্রতা থেকে ফুটবলারদের বাঁচাতে প্রতি অর্ধে তিন মিনিটের এই বিরতি বাধ্যতামূলক করেছে ফিফা।
কিন্তু মাঠের ভেতরে এই পানি পানের বিরতি রূপ নিচ্ছে ‘মোমেন্টাম ব্রেক’ বা ম্যাচের গতি পরিবর্তনের হাতিয়ারে। মার্কিন নারী দলের কোচ এমা হেইস বা স্প্যানিশ তারকা হুয়ান মাতা- বা যুক্তরাষ্ট্রর কোচ পচেত্তিনো সবারই এক সুর। এই বিরতি কেড়ে নিচ্ছে ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ।
আরও পড়ুন:
পরিসংখ্যান বলছে একই কথা। মরক্কোর বিপক্ষে ১-০ তে পিছিয়ে থাকা ব্রাজিল এই বিরতির ঠিক ৬ মিনিট পরেই সমতায় ফেরে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিজেই স্বীকার করেছেন, এই তিন মিনিটে তিনি পুরো দলের রণকৌশল বদলে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, যারা মাঠে আধিপত্য দেখাচ্ছিল, এই বিরতি তাদের ছন্দ পতন ঘটাচ্ছে; আর যারা পিছিয়ে ছিল, তারা পাচ্ছে নতুন জীবন।
তবে বিতর্ক শুধু মাঠের কৌশল নিয়েই নয়। সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ইয়ান রাইটের মতো অনেকেই মনে করছেন, এটি খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের বাহানা মাত্র! আসল উদ্দেশ্য-আমেরিকান ব্রডকাস্টারদের কোটি কোটি ডলারের বিজ্ঞাপনের জায়গা করে দেয়া। এমনকি ছাদ ঢাকা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামেও এই বিরতি চলায় প্রশ্ন উঠছে-আসলেই কি গরমের জন্য এই বিরতি, নাকি স্রেফ বাণিজ্যিক স্বার্থে।
আরও পড়ুন:
অবশ্য ভিন্নমতও আছে। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, খেলোয়াড়দের একটু শ্বাস নেয়ার সুযোগ দেয়া এবং সুস্থ রাখাটাই সবচেয়ে বড় কথা।
বিশ্বকাপ যত সামনে আগাচ্ছে, এই তিন মিনিটের বিরতি তত বেশি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে। এটি খেলোয়াড়দের জন্য আশীর্বাদ, নাকি ফুটবলের সৌন্দর্য নষ্টকারী বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন বিরতি-সেই বিতর্ক হয়তো পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই চলবে।





