ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে জোসকো গভার্দিওল ক্রোয়েশিয়ার হয়ে সমতাসূচক গোল করলেও, অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। ফলে এক গোলের আক্ষেপ নিয়েই বিশ্বমঞ্চ থেকে মাঠ ছাড়তে হয় ক্রোয়াটদের।
বয়স চল্লিশ ছুঁলেও মাঠের লড়াইয়ে দুর্দান্ত অবদান রাখেন মদ্রিচ। পর্তুগালের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৬ বার বল স্পর্শ করেন এই মিডফিল্ডার। এছাড়া তিনটি সফল ট্যাকল ও দ্বিতীয়ার্ধে দু’টি বিপজ্জনক ক্রস বাড়িয়ে প্রতিপক্ষ শিবিরে কাঁপন ধরান।
ম্যাচ শেষে ক্রোয়েশিয়ার কোচ ল্যাটকো দ্যালিচ ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটিই হয়তো মদ্রিচের শেষ বিশ্বকাপ। তবে তিনি যোগ করেন, ‘আগামী চার বছরে কী ঘটবে তা কেবল ঈশ্বরই জানেন। দেখা যাক কী হয়। আমরা ক্রোয়েশিয়ায় ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।’
মদ্রিচের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে ক্রোয়াট কোচ বলেন, ‘লুকা অসাধারণ খেলেছে। বরাবরের মতোই সে আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিল। তার জন্য এভাবে বিদায় নেয়াটা সত্যিই দুঃখজনক। সে আবারও নিজেকে প্রমাণ করেছে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’
আরও পড়ুন:
মদ্রিচের সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ও পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘আমি লুকার সঙ্গে বহু বছর খেলেছি। আমাদের বয়স প্রায় কাছাকাছি। আমার চোখে সে ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তি এবং সে সব সময়ই এমন হয়ে থাকবে।’
অন্যদিকে, পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ মদ্রিচের দীর্ঘস্থায়ী ক্যারিয়ার এবং ফুটবল মস্তিস্কের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণত ট্যাকটিক্স, টেকনিক বা শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে কথা বলি। কিন্তু লুকা মদ্রিচ এমন একজন ফুটবলার, যে মাঠে বল পায়ে রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’ বর্তমান ফুটবলে এমন ঠান্ডা মাথার খেলোয়াড় খুব কমই দেখা যায়।”
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে যথাক্রমে রানার্স-আপ ও তৃতীয় স্থানে নিয়ে যাওয়া মদ্রিচ ক্যারিয়ারে মোট পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও দলের চারটি ম্যাচের প্রতিটিতেই তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন।
২০১৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৬টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ৪টি লা লিগা শিরোপা জিতেছেন। ডায়নামো জাগরেব, টটেনহ্যাম হটস্পার ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সুদীর্ঘ ২৩টি ক্লাব সিজন পার করেছেন তিনি। এমনকি সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে এসি মিলানের হয়েও বল টাচ, সফল পাস ও বল রিকভারিতে তিনি দলের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন।




