বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে দুই গোলে পিছিয়ে পড়লে আর্জেন্টিনার আর ফেরার পথ নেই। এর আগে ১১ বার বিশ্বকাপে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু একবারও জয়ের মুখ দেখেনি তারা।
সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ জুন মেক্সিকোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে জয়ের মুখ দেখে আর্জেন্টিনা। এরপর প্রথমে গোল হজম করে ৪ বিশ্বকাপ ম্যাচের একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি তারা। অবশেষে দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটালো মেসির দল।
আটলান্টায় মিশরের বিপক্ষেও শুরুটা ছিল ঠিক তেমনই। ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি ধাক্কাও খেতে যাচ্ছিলো। যদিও ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়ে যায় মিশরের দ্বিতীয় গোল। এর কিছুক্ষণ পর জিকোর গোলে ব্যবধান সত্যিই দাঁড়ায় ২-০।
সেখান থেকেই শুরু ইতিহাস বদলের গল্প। হার মানতে নারাজ লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণে চাপে ফেলে মিশরকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থেকে অতিরিক্ত সময়ে না গড়িয়ে ম্যাচ জেতার রেকর্ড নেই আর কারোর।
ফল অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে ১ম গোল করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এর ৪ মিনিট ৯০ সেকেন্ড পর মেসির পা ছুঁয়ে আসে দ্বিতীয় গোল। ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে লাউতারোর ক্রস থেকে ফাঁকায় থাকা এনজো ফার্নান্দেজ করেন জয়সূচক গোল যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৩০০০ তম গোল। তিনটি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। আর তাতেই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।
এই জয়ে ভেঙেছে বহু বছরের এক অস্বস্তিকর রেকর্ডও। ১১টি ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর ১২তম চেষ্টায় এসে মিলেছে সাফল্য।
বিশ্বকাপের মঞ্চে তাই আটলান্টার এই রাত শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গল্প নয়, বরং আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় এক প্রত্যাবর্তনের নাম।





