নওগাঁয় ইরি-বোরো ধানের কাঙ্খিত দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে কৃষক। তারা বলছেন, এ বছর বোরো আবাদে সার ও শ্রমিকসহ আনুষঙ্গিক খরচ বেড়েছে। বিঘাপ্রতি খরচ পড়েছে অন্তত ১৮-২০ হাজার টাকা। বৌরি আবহাওয়ায় ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ২০-২৫ মন। বাধ্য হয়ে কম দামেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় একজন কৃষক বলেন, ‘অতিরিক্ত আমাদের খরচের জন্য আমরা লাভ করতে পারছি না। এ বিঘায় ১৮-২০ মণ ফলন, আর এ ১৬-১৮ হাজার টাকা খরচ।’
একজন অভিযোগ করে বলেন, ‘অন্যান্য জিনিসের দাম বেশি, কিন্তু ধানের বাজারে না পাওয়াতে আমরা যে কৃষক মরে ভূত।’
বৈরী আবহাওয়ায় ফলন উৎপাদন কম, উৎপাদন খরচ বেশি এবং দাম কমায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে কৃষকদের। দাম কমার পেছনে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন তারা। ব্যবসায়ী ধান কিনতেছে না। না কিনলে কেমনে বেচবো কেমন করে বলে জানান কৃষকরা।
সরকারিভাবে মোটা জাতের ধান ৩৬ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করছে খাদ্যবিভাগ। তবে বিভিন্ন বিড়ম্বনা এড়াতে খাদ্যবিভাগ ধান দিতে অনীহা কৃষকদের। নগদ টাকায় খোলা বাজারে বিক্রিতে আগ্রহী তারা। বাজার সিন্ডিকেটের কারণে দাম বেশি পাচ্ছে না বলে জানান জেলার কৃষকরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৌরি আবহাওয়ায় ধানের মান খারাপ হয়েছে। এছাড়া চাহিদার তুলনায় ধানের সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। ভাল ধানের দাম বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়িদের।
ধান ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা দাম ভালো দাম দিচ্ছি। কিন্তু এখন বর্তমান যে ধানগুলোর কালার হয়ে গেছে, বাওনা (বাদল) পরিমাণ ধান কালার নষ্ট হয়ে গেছে। এ জন্যে আমরা দাম দিতে পারছি না।’
নওগাঁ চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘১৫ দিন আগে ১৮-২০, সেই ধানের ময়েশ্চার এখন দাঁড়িয়েছে ২০-২২-২৩ এ। ধানের আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়ার কারণে এ ধানের দামটা কিছুটা কমেছে। মান কমেছে তাই দাম কমেছে।’
কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় ১ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যাতে প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি ধান উৎপাদনের আশা কৃষি বিভাগের।





