কৃষি বিভাগ বলছে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় আপাতত বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন নেই।
ফরিদপুর দেশের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহৎ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৪৭ হাজার ৩৬ হেক্টর জমিতে। এসব জমি থেকে প্রায় সাত লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।
জেলার কৃষকরা সাধারণত উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ চাষ করে থাকেন। এর মধ্যে কিং জাতের পেঁয়াজের আবাদ বেশি। আকারে তুলনামূলক বড় হওয়ায় এ জাতের পেঁয়াজে ফলনও বেশি পাওয়া যায়।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন বাজারে চাষি পর্যায়ে প্রকারভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি ও সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বাজারদরে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফরিদপুরের ঠেনঠেনিয়া বাজারের পেঁয়াজ চাষি বজলুর রহমান, আবু তালেম মোল্লা, হাসমত শেখ, সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হয়।
তারা জানান, এবার পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে এখন ১ হাজার থেকে ১৩শ টাকা মণ দরে বিক্রি করছি। দামটা যদি আরও একটু ভালো পাওয়া যায়, তাহলে তারা লাভবান হতে পারবেন।
চাষিদের দাবি উৎপাদন ভালো হয়েছে তবে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করার মতো আধুনিক প্রযুক্তি না থাকায় অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এই পেঁয়াজ নষ্ট না হলে তারা যেমন লাভোবান হতে পারতেন তেমনি রাষ্ট্র চাষিদের কাছ থেকে আরও পেঁয়াজের সরবরাহ পেতো । এতে বাজারের ভারসাম্য ঠিক থাকতো বলে জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন:
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ফরিদপুরের কৃষকদের ঘরে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। ফলে স্থানীয় উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়েই বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। একারণে আপাতত বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপ-পরিচালক শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়েই বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে দর আরও একটু বৃদ্ধি পেলে চাষিরা লাভবান হতেন।’
তিনি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে চাষিরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন করেছেন। জেলায় প্রায় ৭ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে কৃষক ও ভোক্তা উভয়পক্ষই উপকৃত হবে।’
কৃষকদের প্রত্যাশা, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে পেঁয়াজের ন্যায্য বাজারদর নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।





