ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নাম। তবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের পর থেকেই তাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে একের পর এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ- সবকিছু একসঙ্গে সামলানোই হবে তার সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষক বুলবুল হাসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পরে অ্যান্ডি বার্নহাম যে বক্তৃতা করেছেন এবং যে ঘোষণাগুলো দিয়েছেন, তার মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য হচ্ছে যে কস্ট অব লিভিং বা জীবনযাত্রার যে ব্যয় বৃদ্ধি, সেটি যে মানুষকে সাধারণ মানুষকে ভোগাচ্ছে সেটি সম্পর্কে তিনি জানেন এবং সেটা যে একটা অন্যতম প্রায়োরিটি বা প্রাধান্য, সেটি তিনি বলেছেন, সেটি নিয়ে তিনি কাজ করতে চান।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘এই যে যে একটা মানবিক জায়গা থেকে বিষয়গুলোকে দেখা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে তিনি যে আমলে এনেছেন বা তার মাথায় নিয়ে তিনি যে পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন, এটিও এক ধরনের আশার সঞ্চার করেছে ব্রিটেনের সাধারণ বা ওয়ার্কিং ক্লাস বা মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভেতরে।’
অর্থনীতি ও জনসেবার পাশাপাশি নতুন সরকারের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় অভিবাসন নীতি। স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা, ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন ও ভবিষ্যৎ সংস্কার নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ ব্যাপক পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, তার হঠকারী সিদ্ধান্তে স্টারমার প্রশাসন যেমন সমালোচিত হয়েছিল, নতুন সরকারও একই ঝুঁকিতে রয়েছে।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ সলিসিটর এমডি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাবানা মাহমুদ আবার নতুন গভর্মেন্টের হোম সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি চেষ্টা করছেন যে তার যে প্ল্যান, সে প্ল্যানটি তিনি বাস্তবায়ন করবেন। এরইমধ্যে তিনি প্রথম প্রতিক্রিয়া বলেছেন যে, “শি উইল ফিনিশ হার বিজনেস।” তো যদি তিনি সেই বিজনেস—যে ইমিগ্রেশন রুলস যে টাফ করার যে বিজনেস—যদি তিনি বাস্তবায়ন আবার করেন, সকলের মধ্যে যে উদ্বেগ, সে উদ্বেগ থাকবে। যে উদ্বেগের কারণে আপনার প্রিভিয়াস প্রাইম মিনিস্টারকে চলে যেতে হয়েছে কিয়ার স্টারমারকে, আবার নতুন গভর্মেন্ট অ্যান্ডি অ্যান্ডি বার্নহামেরও হয়তো সে একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।’
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ, দলের ভেতরের প্রত্যাশা এবং আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই যাত্রা শুরু করলেন অ্যান্ডি বার্নাম। এখন তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত শুধু ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনীতিকেই নয়, বরং ব্রিটেনে বসবাসকারী লাখো মানুষ, অভিবাসী, কর্মজীবী পরিবার ও ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ এবং দৈনন্দিন জীবনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।





