নতুন বন্যার শঙ্কায়ও জীবন বাজি রেখে নেপালে চলছে উদ্ধার অভিযান

নেপালে উদ্ধার অভিযান চলছে
নেপালে উদ্ধার অভিযান চলছে | ছবি: সংগৃহীত
0

নতুন দফা বন্যার শঙ্কা থাকলেও একপ্রকার জীবন বাজি রেখে কাদা ও পাথর মিশ্রিত মাটি পেরিয়ে হতাহতদের উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে নেপাল সেনাবাহিনী। হতাহতদের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে গতি বাড়াতে দুর্গম এলাকাগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে হেলিকপ্টার। এদিকে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস কবলিতদের পাশে দাঁড়াতে তহবিল সংগ্রহ করছেন লন্ডনে বসবাসরত নেপালের প্রবাসীরা।

আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে বিধ্বস্ত নেপালের রসুয়া জেলা। গত বুধবারের (২৬ আগস্ট) এই দুর্যোগে ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলে আটকা পড়াইতন শতাধিক কর্মীকে উদ্ধারে একপ্রকার জীবন বাজি রেখেই কাদামাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।

শুধু রসুয়া নয়, বন্যা-ভূমিধস বিধ্বস্ত অন্যান্য এলাকাগুলোতেও দিন-রাত এক করে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। কাদা-পাথরের স্তূপ পেরিয়ে কোলে কিংবা স্ট্রেচারে করে বের করে আনছেন হতাহতদের। পাঠানো হচ্ছে স্থানীয় হাসপাতালে। তবে ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করায় নতুন দফা বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একারণে ক্ষণে ক্ষণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার কার্যক্রম।

নেপাল সেনাবাহিনীর একজন সদস্য বলেন, ‘উজানে পানির স্তর বেড়েছে। এ কারণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ আমরা নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে আছি।’

আরও পড়ুন:

উদ্ধারকাজে গতি বাড়াতে এরইমধ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে নেপাল সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রবেশ করছে একের পর এক ভারী ক্রেন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি। শুধু উদ্ধার কার্যক্রম নয়, ত্রাণ কার্যক্রমেও গতি বাড়াতে দুর্গম এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে সেনাবাহিনী। স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘আমরা জানি না, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আরও কতজন আটকা আছে। সবকিছু জানতে আমাদের উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের ওপর ভরসা রাখতে হবে।’

এদিকে প্রলয়ংকারী দুর্যোগ কবলিত নেপালের পাশে দাঁড়াতে তহবিল সংগ্রহ শুরু করছেন লন্ডনে বসবাসরত নেপালের বাসিন্দারা। পূর্ব লন্ডনের একটি মন্দিরে রাখি বন্ধন উৎসবের সময় এই তহবিল সংগ্রহ করা হয়। আয়োজকরা জানান, এখন পর্যন্ত ছয় হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করতে পেরেছেন তারা।

এসএস