সারজিস বলেন, ‘আমি মনে করি সাংবাদিকদের একটা বেতন কাঠামো থাকা উচিত। যেই বেতন কাঠামোর আঙ্গিকে তারা ব্যক্তিগতভাবে, পারিবারিকভাবে, সামাজিকভাবে একটা আর্থিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আসলে খুব স্বাভাবিকভাবেই যখন একটা মানুষের আর্থিক প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়; তখন বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান , দলের দ্বারস্থ হতে হয়। ফলে পরিপূর্ণ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এর দায় কেবল সংবাদ কর্মীদের নয়। আমাদের সিস্টেমটা ওইভাবে গড়ে উঠতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সচ্ছল একটা জীবন যাপন করার মতো সাপোর্ট আমরা দিতে পারিনি। সেটা রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের মাধ্যমেও হয় নাই, সেটা মিডিয়া হাউজগুলোর মাধ্যমেও হয় নাই, সেটা স্থানীয়ভাবেও হয় নাই।’
আরও পড়ুন:
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমি ওয়াদাটা করতে চাই আপনাদের সামনে। আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, তাহলে আমি অবশ্যই আমাদের পুরো বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া যারা কাজ করে থাকেন তাদের জন্য কাজ করবো। তাদেরকে কীভাবে একটি বেতন কাঠামোতে আনা যায়, আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পারিবারিক সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কীভাবে আনা যায় তা নিয়ে কাজ করবো। সেই সঙ্গে অন্যান্য বেসরকারি বা তাদের যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে তাদের সহযোগিতায় কীভাবে কাজ করা যায় সেটি নিয়ে ইনশাআল্লাহ আমরা সংসদে কথা বলব।’
সার্জিস বলেন, ‘আমাদের চাওয়া হচ্ছে, আপনি একটা দলের শুভাকাঙ্ক্ষী হতেই পারেন, আপনি যে কোনো একটা মার্কায় ভোট দিতেই পারেন এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনার হাতে যখন এ বুমটা থাকবে, আপনার হাতে যখন ক্যামেরা থাকবে, আপনি যখন একজন সাংবাদিক হিসেবে প্রশ্ন করবেন, সাংবাদিক হিসেবে একটা রিপোর্ট লিখবেন, তখন আপনি সমাজের দর্পণ ও প্রফেশনাল হবেন।’
নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই নির্বাচনে যে কোনো কেন্দ্রে, যেকোনো রাজনৈতিক দল দ্বারা, ব্যক্তি দ্বারা যদি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়, ক্ষমতা খাটানোর, পেশিশক্তি প্রয়োগ করার বা অন্য যে কোনো আইনশৃঙ্খলা নিয়ম সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করার যদি কেউ অপচেষ্টা করে সেটা আপনারা মানুষের সামনে দেশের সামনে তুলে ধরবেন।’
তিনি বলেন, ‘এখানে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের অনেকেই আছেন, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। কিন্তু মাঝে মাঝে হঠাৎ করে উনি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব কয়েক ঘণ্টার জন্য ছেড়ে আবার হঠাৎ করে সাংবাদিক হয়ে যান। আবার কয়েক ঘণ্টা পরে আবার কয়েক দিন কয়েক মাসের জন্য আবার রাজনৈতিক বড় নেতা হয়ে যান। এই জিনিসগুলো আপনারা যারা প্রকৃতপক্ষে এ পেশাকে ধারণ করেন, আপনাদের প্রফেশনালিজমকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। সো এটা আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনাদের আত্মমর্যাদা ও সম্মান বজায় রাখার জন্য হলেও আপনাদের এই পেশাটাকে আপনাদের পরিচয়পত্রটাকে কেউ যেন অ্যাবিউজ না করতে পারে না পারে সেজন্য সজাগ থাকবেন।’





