২০২০ সালে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গিয়েছিল সাজানো গ্রাম। এখন অনেকের মতো বেড়িবাঁধের ওপর এক চিলতে খুপরি ঘরে তিল তিল করে জমছে নুরজাহান বেগমের দীর্ঘশ্বাস।
নুরজাহান বেগম বলেন, ‘আমাদের এই নদী ভাঙনে সব চলে গেছে, ঘর বাড়ি কিছু নেই। কিছু খেতে পারি না। ভাগ্যে থাকলে খাই আর না হলে খাই না।’
আরও পড়ুন:
নুরজাহান বেগমের মতো উপকূলের হাজারো পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস করছে। সরকারি সামান্য বরাদ্দে হয়তো ক্ষুধা কিছুটা মেটে, কিন্তু উৎসবের আনন্দ নেই। বারবার ঘূর্ণিঝড় ও লোনা পানিতে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ায় মানুষের কর্মসংস্থানও সীমিত। স্থানীয়রা জানান, নদী ভাঙনের কারণে ঈদ বলে কিছু নেই। আর সরকারি ভাবেও কোনো সাহায্য তারা পায়নি।
ঈদে সরকারিভাবে যে সাহায্য মিলছে, সেটা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য-বলছেন স্থানীয়রা। আর জনপ্রতিনিধিদের দাবি, বরাদ্দ কম হওয়ায় বিপাকে তারা। জেলা সমাজসেবা কার্যালয় বলছে, সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সাড়ে তিন হাজার পরিবারকে দিতে হলে সাড়ে তিন হাজার লাগে। আর বর্তমানে সবাইকে দিতে পারবো না। তাই ঈদের যে সহায়তা তা আমরা পূর্ণভাবে দিতে পারবো না।’
সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘তারেক রহমান তার উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। ১৪টি ইউনিটে সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে উপকূলের মানুষেরা উপকৃত হবে।’
টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান অনেকটাই বদলে যেতে পারে।





