কৃষিতে ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ; ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক

জমিতে সার প্রয়োগ করছেন কৃষক
জমিতে সার প্রয়োগ করছেন কৃষক | ছবি: এখন টিভি
0

তপ্ত রোদে নিষ্প্রাণ জমিন, ভূ-গর্ভ থেকে উঠে আনা পানি আর কৃষকের নিবিড় যত্নে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে সরস। সবুজ বর্ণ ধরণ করে ফসলি মাঠ-প্রান্তর। আধুনিক চাষাবাদের কল্যাণে বদলে গেছে চৈত্রের কৃষি। যদিও ধান চাষে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ আর শ্রমিক—সব মিলিয়ে ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। মৌসুম শেষে ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক।

ঋতুরাজ বসন্তে গাছে গাছে কচি পাতার সজীবতা আর রঙ-বেরঙের ফুলে রঙিন প্রকৃতি। তবে এই সৌন্দর্যের পাশাপাশি চৈত্রের খরতাপ নিয়ে আসে রুক্ষতা। প্রখর রোদে ফেটে চৌচির হয়ে যায় ফসলি মাঠ।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সারের ও বীজের দাম বেশি থাকায় কৃষকদের বেশি লস হচ্ছে এখন।

লাভ কমায় ধান আবাদে আগ্রহ হারিয়ে অনেক কৃষক ঝুঁকছেন ভুট্টা চাষে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে হয়েছে ভুট্টার আবাদ। একই কারণে গম চাষেও বাড়ছে আগ্রহ। তাই মাঠে মাঠে গম কাটার ব্যস্ততা।

আরও পড়ুন:

ভুট্টা চাষি ও গম চাষিরা বলছেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ এবার চাষ করা হয়েছে। তাই এবার লাভের আশা করছেন ভুট্টা ও গম চাষিরা।

শীত বিদায় নিলেও উর্বর মাটি আর সেচের কারণে মাঠে এখনো মাঠে শীতকালীন সবজির সমারোহ। মহাস্থান হাটে জমজমাট সবজি বেচাকেনা। এই হাটকে ঘিরে প্রতিদিনের বাণিজ্য কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বগুড়ার আরেক প্রধান ফসল আলু। ভালো ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানে বিক্রি করছেন কৃষকরা।

আলু চাষিরা জানান, ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা প্রতি বিঘায় খরচ হলেও এখন আলুর দামই নেই। আলু বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ টাকা কেজি।

ফসলের উন্নত জাত উদ্ভাবন ও পরিশ্রমী কৃষকের শ্রমে বাড়ছে উৎপাদন। ভালো দামের নিশ্চয়তা, সহজলভ্য সেচ ব্যবস্থাসহ কিছু সুবিধা নিশ্চিত করলে বদলে যাবে বগুড়ার কৃষি অর্থনীতি।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, ‘আমাদের এখন সারা বছরব্যাপী ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে আমাদের কৃষি গবেষণা বা ধান গবেষণা বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করছেন। যেটি আমাদের চৈত্র মাস যদি বলে থাকি এসময় এটা ভালো ফসল দিচ্ছে। কৃষক এখন সারা বছর সেচ দিতে পারছেন। ফলে তারা ফসল চাষে উৎসাহিত হচ্ছে।’

ইএ