বজ্রপাতে প্রাণ হারাচ্ছে কৃষক-জেলে; নিরোধে প্রকল্প হাতে নিলেও বাস্তবে নেই অস্তিত্ব

ঝড়-বৃষ্টি, বজ্র নিরোধের প্রকল্প
ঝড়-বৃষ্টি, বজ্র নিরোধের প্রকল্প | ছবি: এখন টিভি
0

জীবনের তাগিদে হাওরে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারাচ্ছে কৃষক ও জেলেরা। গত চার বছরে সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জনের। বজ্র নিরোধে নানা প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও বাস্তবে সেগুলোর অস্তিত্ব নেই।

হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জের এক তৃতীয়াংশ মানুষ কৃষি কাজ ও মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত। ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল কিংবা বজ্রপাত এই তিন দুর্যোগ সঙ্গে মোকাবিলা করেই এখানকার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে জেলায় এখন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে বজ্রপাত।

করচার হাওরের কৃষক রাকিব মিয়া। চলতি বছর ১০ একর জমিতে করেছেন বোরো ধানের আবাদ। সেই ধানের সামান্য অংশ কাটতে পারলেও বজ্রপাতের ভয়ে বাকি ধান কাটতে আগ্রহী নন কোনো শ্রমিক ও কৃষক।

কৃষক রাকিব মিয়া বলেন, ‘ধানটা করি কষ্ট কইরা, তুলতেও কষ্ট হয়। আর এই ঠাডা-বাডা মানুষ আকস্মিকভাবে অইয়া মারা যায়। ধান কাডাইতে অসুবিধা হইতেছে, ধান আনতেও অসুবিধা হইতেছে।’

গত ৪ বছরে এই জেলায় সরকারি হিসেবে বজ্রপাতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা আরও বেশি।

আরও পড়ুন:

২০২২ সালে ৬ জন, ২০২৩ সালে ২৯ জন, ২০২৪ সালে ১১ জন, ২০২৫ সালে ১৫ জন এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৭ জন।

২০২৩ সালে কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে সুনামগঞ্জের ছয় উপজেলায় মোট ১৮টি বজ্র নিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা হলেও এই দণ্ডগুলো কতটুক বজ্র ঠেকিয়েছে এ ধরনের তথ্য কোনো দপ্তরে নেই। পাশাপাশি বজ্রপাত ঠেকাতে ২০১৭ সালে তিন হাজার, ২০১৮ সালে এক লাখ এবং ২০২২ সালে ৫০০ তালগাছ কাগজে কলমে রোপণ করা দেখানো হলেও বাস্তবে গাছগুলোর অস্তিত্ব নেই।

সুনামগঞ্জ বিশ্বস্তপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান বলেন, ‘গতকালকেই আমি বিষয়টা আমার নজরে এসেছে যে এখানে এরকম একটা প্রজেক্ট বা প্রকল্প ছিল। সেগুলো দিয়ে কী করা হয়েছে সেগুলো আমরা খোঁজাখুঁজি করতেছি।’

যদিও বজ্রপাত থেকে কৃষকদের রক্ষায় নানা উদ্যোগের কথা জানালেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, ‘বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক যে কার্যক্রমগুলো আছে সেগুলোই চালাচ্ছি। জনবহুল স্থানগুলোতেই মেইনলি হচ্ছে বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের বজ্রপাতের ঘটনাগুলো ঘটে হচ্ছে খোলা মাঠ বা ফসলের মাঠের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।’

বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার এমন প্রত্যাশা সুনামগঞ্জবাসীর।

এসএস