শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো বেলা ১১টার দিকে পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিম বিতরণ করা হয়। তবে খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
তাদের মধ্যে বমি, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা ও চোখে জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এতে পুরো বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিভাবকদের দাবি, শুধু আজ নয় গত কয়েকদিন ধরেই এ খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বাপ্পি রায়হান নামের এক অভিভাবক জানান, তার সন্তানও গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে রয়েছে এবং স্কুলে যেতে পারেনি। আজও একই খাবার খেয়ে আরও অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খাওয়ার পর শিশু শিক্ষার্থীদের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়ে। হঠাৎ করেই একের পর এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে, এতে পুরো বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’
অন্য একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমি নিজে স্কুলের মাঠে গিয়ে দেখেছি, চারদিকে শুধু বাচ্চাদের আহাজারি কেউ বারবার বমি করছে, কেউ তীব্র পেটব্যথায় মাটিতে গড়াগড়ি করছে, আবার কেউ মাথা ঘোরা ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছে না। শিক্ষক ও অভিভাবকরা ছুটে এসে তাদের সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন।’
আরও পড়ুন:
এদিকে ঘটনার পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জেলা ফিল্ড অফিসার লিটন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. মেফতাহুদ্দৌলা বলেন, ‘খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান “গাক”-এর দেয়া খাদ্যগ্রহণের পর থেকেই সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবারই পেটে ব্যথা ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে।’
তিনি জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হলে তিনি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
আরও পড়ুন:
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসেন খান বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাড়িতেও গেছিলাম। তদন্ত শেষে যদি কারও গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সুস্থ রয়েছে। যে খাবার খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়েছিল, সেগুলো পরীক্ষার জন্য বিএসটিআইয়ে পাঠানো হয়েছে।’
পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আর আপাতত খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গাককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।





