সিলেটে পেট্রোল-অকটেনে স্বস্তি থাকলেও ডিজেল সংকটে চরম ভোগান্তি

সিলেটে একটি ফিলিং স্টেশনের চিত্র
সিলেটে একটি ফিলিং স্টেশনের চিত্র | ছবি: এখন টিভি
0

সারাদেশে যখন জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ঠিক সেসময়ে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহে রেশনিং না থাকায় সিলেট মহানগরের কোনো ফিলিং স্টেশনেই দেখা যাচ্ছে না যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তবে ডিজেল সংকটে চরম ভোগান্তিতে সংশ্লিষ্ট খাতের গ্রাহক ও সেবাগ্রহীতারা। ডিপো সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় ডিজেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। নাগরিক প্রতিনিধিদের মতে, ডিজেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে কার্যকর বিপণন ও জোরদার মনিটরিং জরুরি।

শহরের পাঠানটুলা এলাকার ফিলিং স্টেশনে নেই যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। গ্রাহকরা স্বাচ্ছন্দ্যে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। একই চিত্র সিলেট মহানগরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনের। স্থানীয় গ্যাসফিল্ড থেকে আহরিত পেট্রোল ও অকটেন সহজলভ্য হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ তুলনামূলক স্থিতিশীল।

পেট্রোল ও অকটেনের গ্রাহকরা জানান, অন্যান্য জায়গা থেকে সিলেটে সবাই স্বস্তিতে আছে এবং এখন পর্যন্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য জেলায় দেখা যায় প্রায় ১৫০-২০০ মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়ানো থাকে। কিন্তু সিলেটে সাধারণত এরকম দেখা যায় না।

তবে, হাসপাতাল, আবাসিক হোটেল ও বিপণিবিতানে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া রেলপথে ইঞ্জিন সংকট, নৌপথে পরিবহনে বিলম্বে সময়মতো ডিজেল পৌঁছাতে না পারায়- চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা।

ডিজেল গ্রাহকরা জানান, রাস্তার ভেতরে প্রতিটা পাম্পেই ডিজেল নাই। পেট্রোল অকটেন সাপ্লাই আছে ডিজেল নাই। সকাল ৯টা থেকে এখন পর্যন্ত সিরিয়ালে আর বাকিটা তো আপনারা চোখের সামনে দেখছেন।

আরও পড়ুন:

পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, অতিরিক্ত মজুতের কারণে ডিজেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার আশা তাদের। এদিকে, সচেতন নাগরিকদের মতে-ডিজেলের সরবরাহ সহজলভ্য করতে এবং সম্ভাব্য পাচার রোধে সরকারের কার্যকর নজরদারি অপরিহার্য।

বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগের সভাপতি জোবায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘মানুষ আসলে প্যানিক হয়ে গেছে। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধটায় এখন মোটামুটি কিছুটা শান্ত হয়েছে। আশা করি আরও সপ্তাহখানেকের ভেতর তেলের ক্রাইসিস শেষ হয়ে যাবে।’

সংগঠক ও উন্নয়নকর্মী ব্যারিস্টার আবুল ফজল বলেন, ‘কালোবাজারি বা আড়তদার, মজুদদার, সিন্ডিকেট এদের পাল্লায় যেন এই সেনসিটিভ বিষয় তেল, ডিজেল, অকটেন এটা যেন না পড়ে। এটা সরকারের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে আহ্বান থাকবে এ বিষয়টা সরকার যেন সঠিকভাবে মনিটর করে।’

সারাদেশে জ্বালানি ঘিরে অস্থিরতার পরও স্থানীয় গ্যাসফিল্ড থেকে পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা পূরণের কারণে সিলেটে বড় ধরনের সংকট দেখা যায়নি। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে স্বস্তিতে থাকবে সিলেটের লাখো গ্রাহক।

ইএ