উন্নত জীবনযাপন ও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় লেবাননে পাড়ি জমালেও সুদিন ফেরেনি সিলেট প্রবাসী রহিমা আক্তারের জীবনে। আট মাস আগে হাজারও স্বপন নিয়ে লেবাননে আসেন তিনি। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন সাইদা জেলার সোয়েলী এলাকায়।
তবে সেখানেই ঘটে বিপত্তি। চুক্তি ভঙ্গ করে রহিমার বেতন থেকে প্রতি মাসে ৫০ ডলার কেটে রাখে মালিকপক্ষ। পাশাপাশি ছিল অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব। একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়াই টাকা চুরির অভিযোগ তোলে গৃহকর্তা। চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন।
রহিমা জানান, তার মালিক একটি বাস বিক্রি করে টাকা বালিশের নিচে রাখেন। সেখানে টাকা না পেয়ে রহিমাকে সন্দেহ করে মারধর করেন।
নতি স্বীকার না করায় তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের হুমকি দেয় মালিকপক্ষ। তবে ঘটনায় নাটকীয় মোড় আসে, যখন মালিকের এক আত্মীয় নিজেই চুরির দায় স্বীকার করে। এতে রাহিমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। কিন্তু এরপরও বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় মালিকপক্ষ।
আরও পড়ুন:
অবশেষে বিষয়টি গড়ায় লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস পর্যন্ত। পরে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও বকেয়া বেতন আদায়ের পর নির্যাতিত রহিমাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
বৈরুতের বাংলাদেশ দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘মালিকপক্ষ তার সাথে ভালো ব্যবহার করছে না, তার সাথে খারাপ ব্যবহার করছে এবং তাকে বিভিন্নভাবে বঞ্চিত করছে তার অধিকার থেকে তখন আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আমরা তার মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে তাকে আমরা উদ্ধার করার চেষ্টা করি এবং আমরা তাকে উদ্ধার করি এবং আমাদের হেফাজতে নিয়ে আসি।’
আনোয়ার হোসাইন আশ্বস্ত করেন, শুধু রহিমা নয়, লেবাননে কাজ করা অন্যান্য বাংলাদেশি নারী কর্মীরা নির্যাতনের স্বীকার হলে তাদেরকেও দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেয়া হবে আইনি সুবিধা।
বৈরুতের বাংলাদেশ দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘কোনো বাংলাদেশি কর্মী বিশেষ করে নারী কর্মীরা নিগৃহীত হলে সেক্ষেত্রে দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে এবং আমরা সব প্রকার আইনি সহায়তা প্রদান করে থাকি।’
এদিকে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া রহিমা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পুনর্বাসনের জন্য সর্বোচ্চ সহায়তা কামনা করেছেন।





