আজ (বৃহস্পতিবার, ৭ মে) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর হোটেল আগ্রাবাদে আয়োজিত এক গোলটেবিল সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ও সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা) ও আশিকা যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
‘অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন ফর ল্যান্ডস্লাইড কজিং ডিসপ্লেসমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় সভায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি পলিসি পেপার তুলে ধরা হয়।
এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ পাহাড়ের ঢাল ও মাটির গঠন অনুযায়ী এলাকাগুলোকে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জোনে ভাগ করা এবং যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে বাধ্যতামূলকভাবে মাটির কারিগরি পরীক্ষা করার প্রস্তাব দেন।
আরও পড়ুন:
এছাড়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিতে সতর্কতা, ১০০ মিলিমিটারে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি এবং ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে দ্রুত উচ্ছেদের সুপারিশ করা হয়। সেই সঙ্গে কৃত্রিম কাঠামোর বদলে পরিবেশবান্ধব উপায়ে পাহাড়ের ঢাল স্থিতিশীল রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ‘চট্টগ্রামে ভূমিধস মূলত অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং দুর্বল ভূমি ব্যবস্থাপনার ফল। বর্ষায় অল্প সময়ের অতিবৃষ্টিতেও এখন বড় বিপর্যয় ঘটছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চসিকের নগর পরিকল্পনা বিভাগ উত্থাপিত সুপারিশগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেবে।’
তবে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হলেও অনেক ওয়ার্ডে মাঠের জন্য ন্যূনতম খালি জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না, যা নগর পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতাকে ফুটিয়ে তোলে।’
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল সরোয়ার এবং নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান জানান, শুধু পরিকল্পনা করলেই হবে না, বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সংবেদনশীল পুনর্বাসন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।





