রণাঙ্গন থেকে উচ্চ আদালত: ৫ দশকেও মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

আনোয়ার হোসেন | ছবি: এখন টিভি
0

রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও ৫ দশকেও মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। ২০২৩ সালে উচ্চ আদালত আনোয়ার হোসেনকে মুক্তিযোদ্ধা বলে রায় দেন। তবুও অজানা কারণে এখনও গেজেটভুক্ত হয়নি তার নাম।

আনোয়ার হোসেন। দীর্ঘ ৮ দশকের বয়সের ভার কাঁধে। নুয়ে পড়া শরীরে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবার আশায় এখনো ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে।

ভারতের ট্রেনিং সার্টিফিকেটসহ সব কাগজপত্র থাকলেও কোনো অজ্ঞাত কারণে মেলেনি স্বীকৃতি।

১৯৭১ সালে বগুড়ার নন্দীগ্রাম এলাকা শত্রুমুক্ত হলে থানা চত্বরে প্রায় অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সময়ের ব্যবধানে তাদের কেউ প্রয়াত এবং কেউ মৃত্যুপথযাত্রী। জীবিতদের আছে পাওয়া না পাওয়ার আক্ষেপ। আনোয়ার হোসেন তাদের অন্যতম। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের পর সহকর্মীরা স্বীকৃতি পেলেও জীবনের অন্তিম মুহূর্তে এখনও স্বীকৃতি বঞ্চিত তিনি।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘৯ ডিসেম্বর থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত একটানা প্রচণ্ড লড়াই হলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সামনে। ওদেরকে পরাস্ত করার পর আমরা এখানে ১৩ই ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয়। তারপর দেশ স্বাধীন, পতাকা তোলে। এরপর যে যার ছাত্র জীবনে ফিরে গেল, কেউ কৃষি জীবনে ফিরে গেল।’

আরও পড়ুন:

২০২৩ সালে উচ্চ আদালত আনোয়ার হোসেনকে মুক্তিযোদ্ধা বলে রায় দেন। তবুও অজানা কারণে এখনও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভুক্ত করা হয়নি তাকে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টে রিট করলাম ২০১৬ সালে। তার রায় হলো ২০২১ সালে। সুপ্রিম কোর্ট ২০২১ সালে উনাদের আপিলটা খারিজ করে দিল। তারপর ২০২৩ সালে চূড়ান্তভাবে রায় দিল যে এদেরকে গেজেট করা হোক, এই ধরনের রায়ের মধ্যে আছে।’

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ভারতের প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর নন্দীগ্রাম থানা চত্বরে পতাকা উত্তোলনের সময় পর্যন্ত একসাথেই ছিলেন। তাদেরও দাবি, গেজেট ভুক্ত করে আনোয়ার হোসেনকে সম্মানিত করা হোক।

ইএ