নিহত মিন্টু শেখ বোলপুর গ্রামের আব্দুল অহেদ শেখের ছেলে।
এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার মোহসিন শেখের সঙ্গে মিন্টুর পরিবারের জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিলো।
নিহতের ভাই মিজান শেখ বলেন, ‘সোমবার বিকেল ৪টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন মিন্টু শেখ। পূর্ব বিরোধের জেরে মোহসিন শেখের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল দেশিয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পরে হামলাকারীরা মিন্টুর ডান হাত কেটে নিয়ে যায়।
‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ভাইকে কুপিয়ে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যাচ্ছে। তখনও ভাই অল্প কথা বলতে পারছিলো। কারা হামলা করেছে, তাদের কয়েকজনের নামও বলেছে। মোহসিন শেখের নেতৃত্বে হামলায় অংশ নেয় দুলাল শেখ, লিওন, কামরুল, মুরাদ, সাইয়াদ, তবি ও আরও কয়েকজন।’
আরও পড়ুন
নিহতের চাচাতো ভাই রফিজ শেখ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। আগেও তারা আমাদের কয়েকবার হুমকি দিয়েছে। হামলার পর মিন্টুর বিচ্ছিন্ন হাত সঙ্গে করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। চারপাশে খুঁজেও হাতটি পাওয়া যায়নি।’
স্থানীয় যুবক রিয়াদ শেখ বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি একটি হাত নেই, পা ঝুলে আছে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তখনই বুঝতে পারি মিন্টু হয়ত মারা যাবে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।’
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সোহেলুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই মিন্টু শেখের মৃত্যু হয়। তার ডান হাত কনুইয়ের নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলো এবং পায়েও গুরুতর জখম ছিলো।’
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।’




