নরসিংদীর নজরপুরের কৃষক ইকবাল বকশির একসময় তার জমি ছিলো, সেখানে এখন জিতরামপুর, অনন্তরামপুর আর বগারগুত গ্রামের বসতি। তার চাষের জমি আজ হাজার ফুট পানির নিচে, যার ওপর দিয়ে চলছে ট্রলার। নেই কোনো অধিকার, নেই দাবি। নদীর এপার ভাঙে ওপার গড়ে। আদিম এ ভাঙা-গড়ায় সব হারিয়ে আজ তিনি অধিকারহীন, নিথর দর্শক।
কৃষক ইকবাল বক্সি বলেন, ‘আমরা একবারে অসহায় হয়ে গেয়েছি। সরকারে যদি আমাদেরকে একটা বেড়িবাঁধ তৈরি করে দেয়, তাইলে আমরা একটু শান্তি পাবো। আর না হলে যে অবস্থা, আমরা একবারে নিঃস্ব হয়ে যাবো। আর যেটুকু আছে, এইটুকুও তেও থাকার মতন পরিস্থিতি থাকবো না।’
আরও পড়ুন
বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে নরসিংদীর নজরপুর ইউনিয়নের নজরপুর, আলিপুর এবং বাহেরচর—এ তিন গ্রামের মানুষের দিন কাটছে এখন নদী ভাঙন আতঙ্কে। তারা বলছেন, বর্ষা ছাড়াও চলে নীরব ভাঙন। মাত্র ২ যুগেরও কম সময়ে বিলীন হয়েছে প্রায় ৫ হাজার বিঘা কৃষি জমি। বছর ঘুরলে সেই ভাঙন গিয়ে ঠেকবে ঘরের দুয়ারে। দিশেহারা গ্রামবাসীর দাবি বেরিবাঁধ নির্মাণের। মেঘনা নদীর আগ্রাসী ভাঙনে অসহায় হয়ে পরেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় কৃষকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করাসহ সম্প্রতি জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদনের অনুলিপি দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও। সেখানকার কর্তারা শুনিয়েছেন আশ্বাসের বাণী।
নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কারিগরি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো এবং কারিগরি প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে এখানে প্রকল্প নেয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’
গত ২ যুগে নজরপুরে নদী ভাঙনের কবলে কর্মহীন হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। এখনও ভাঙন আতঙ্কে অন্তত ৫০ হাজার কৃষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী।





