তিনদিনের টানা বর্ষণ আর বজ্রপাতে ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে পাঁচ সেনা সদস্যসহ মারা যায় ১২০ জন। বছর পেরোতেই ২০১৮ সালের ১২ জুন ফের পাহাড়ধসে ১১ জনের প্রাণহানি ঘটে জেলার নানিয়ারচর উপজেলায়। ভয়াল সেই স্মৃতির কথা এখনও ভুলেনি রাঙামাটির মানুষ।
এ নিয়ে সরকারি তদন্ত কমিটি, পাহাড় ব্যবস্থাপনা নীতি প্রণয়ন, পাহাড় কাটায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদান, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরানো, বৃক্ষ রোপণ, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণসহ একাধিক সুপারিশ করলেও বাস্তবায়ন হয়নি কোনোটিরই।
জেলার ১০ উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। এরমধ্যে পৌর এলাকাতেই ১৪৫টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। পুরনো বসতির পাশে প্রায় প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন স্থাপনা। শহরের শিমুলতলি, রুপনগর, ভেদভেদী, কল্যাণপুরসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছেন মানুষ।
আরও পড়ুন:
বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘বর্ষাকাল আসে। অতি বৃষ্টি হয়, অতি বজ্রপাত হয়। আমরা এখান থেকে সবাই আশ্রয়কেন্দ্রমুখী হবো।’
অন্য একজন বলেন, ‘প্রত্যাশার কোনোটাই পূরণ হয়নি। যেমন আমাদের আশ্রয়কেন্দ্র করে দেয়ার কথা, আশ্রয়কেন্দ্র হচ্ছে, আমরা এখন বেতার কেন্দ্রে আমাদের আশ্রয়কেন্দ্র। এখানে কম পাচ্ছি ওই হিসেবে আমরা কোনোরকম মাথা গুজার একটা ঠাই করে নিয়েছি আরকি এখানে।’
প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় পাহাড়ধসে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশমালার যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে নাগরিক সমাজ থেকেও।
রাঙামাটি জেলা রোভার স্কাউটের কমিশনার নুরুল আবছার বলেন, ‘ঝুঁকির যে বিষয়গুলা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে যেন আমরা এই এই ঝুঁকি থেকে যেন মুক্তি পাই বা এলাকার মানুষ মুক্তি পায়, এজন্য সদাশয় সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমরা আশা রাখি।’
আরও পড়ুন:
এসব বসতি নির্মাণ রোধে দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। তবে দুর্যোগকালীন ক্ষয়ক্ষতি কমাতে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন আর জনসচেতনতা বাড়ানোয় জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘এরইমধ্যে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে একটা কমিটি হয়েছিল এবং সেখানে বেশ কিছু সুপারিশ আকারে আমাদের কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছিল এবং সে কার্যক্রমগুলো গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছিল। প্রতিবছর বিশেষ করে এই সময়টি জুন, জুলাই, অগাস্ট—এই সময়টা এগুলো নিয়ে কাজ করা হয়ে থাকে।’
বর্ধমান জনসংখ্যার পাশাপাশি নির্বিচারে পাহাড়ধংস ও বন উজাড়ে চাপ বাড়ছে পাহাড়ের ভূমির ওপর। তাই পাহাড়ধস রোধে পাহাড় ব্যবস্থাপনা নীতি প্রণয়ন, পাহাড় কাটায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদান ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরানোর সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি স্থানীয়দের।




