মামলা জটিলতায় হাসপাতাল চালু না হওয়ায়, বাড়ছে জনদুর্ভোগ— সেবা থেকে বঞ্চিত নড়িয়াবাসী

শরীয়তপুরের ৫০ শয্যা নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
শরীয়তপুরের ৫০ শয্যা নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | ছবি: এখন টিভি
0

২০২১ সালে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি কাজ শেষ হলেও মামলা জটিলতায় চিকিৎসাসেবা চালু করতে পারেনি শরীয়তপুরের ৫০ শয্যার নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আধুনিক সব সুবিধা থাকার পরও উদ্বোধন না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাখো মানুষ। নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি, খোয়া যাচ্ছে মূল্যবান জিনিসপত্র। সমস্যা সমাধান করে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

৬ একর জমির ওপর ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ বছর আগে নির্মিত হয়েছে- আধুনিক ৫০ শয্যার নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আছে স্টাফ কোয়ার্টার, ডক্টরস ও নার্স ডরমিটরি, এমনকি কর্মকর্তাদের আলাদা বাসভবনও।

জেলার একমাত্র ৫ শয্যার আইসিইউ ইউনিট, ইসিজি, এক্স-রে এবং আলট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থাও রয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, সিসিটিভি ক্যামেরা, উচ্চক্ষমতার আইপিএসও বসানো হয়েছে। তবে মামলার জটিলতায় প্রায় দুই বছর ধরে তালাবদ্ধ পড়ে আছে হাসপাতালটি। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও উদ্বোধন না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাখো মানুষ। দ্রুত এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালুর দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় মানুষেরা জানান, প্রায় দুই বছর ধরে পুরা কমপ্লিট। এর মধ্যে হাসপাতালে গেলে কোনো চিকিৎসা না পাওয়া কথা বলেন তারা।

আরও পড়ুন

অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকায় রাতের আঁধারে চুরি হচ্ছে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদি। পাহারা বসানো হলেও সেখানেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।

নিরাপত্তা প্রহরী বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যদি পুলিশও থাকতো, তাহলে আরও ভালো হতো, আমাদেরও নিরাপত্তা হতো। রোগী আসলে কী হবে? রোগী তো আমরাই না করে দেই যে আপনারা চলে যান, এখানো এটা চালু হয়নি।’

২০১৮ সালে পদ্মার ভাঙনের বিলীন হয়ে যায় নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনসহ বেশ কিছু স্থাপনা। এরপর থেকে নার্স ডরমিটরি, স্টাফ কোয়ার্টার আর প্রশাসনিক ভবনে সীমিত আকারে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। পুরনো এই হাসপাতালটির স্থানান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে স্থানীয় এক আইনজীবীর করা রিটের নিষ্পত্তি না হওয়ায় নতুন হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না বলে জানান স্বাস্থ্য বিভাগের এ কর্মকর্তা।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দীন বলেন, ‘আপনারা জানেন যে মূল হাসপাতাল ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই পুরোনো হাসপাতালের আবাসিক ভবনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলছে, সুতরাং অনেক প্রয়োজনীয় সেবাই প্রদান করা কষ্টকর হচ্ছে। নতুন হাসপাতাল যত দ্রুত সম্ভব স্থানান্তর হবে, ততই জনসাধারণের জন্য মঙ্গল, আমাদের জন্য মঙ্গল, সবার জন্য মঙ্গল।’

মামলার জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নড়িয়ার এই আধুনিক হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবে সর্বস্তরের মানুষ- এখনটাই প্রত্যাশা সবার।

জেআর