লিখিত বক্তব্যে স্বপ্নার মা নেহা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগর এমডব্লিউ স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী স্বপ্না ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। পরে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বাসায় ফিরে এলেও এরপর থেকেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়।
পরদিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ২ মে দুপুরে তাদের বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত স্থানে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় স্বপ্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় প্রথমে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। পরে স্কুল ড্রেস দেখে স্বপ্নার মরদেহ হিসেবে নিশ্চিত হন তার বাবা মোহাম্মদ খোকা।
নেহা অভিযোগ করেন, মরদেহ উদ্ধারের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তৎকালীন এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ও তার স্বামীকে সন্দেহভাজন হিসেবে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কয়েকদিন পর তাদের ছেড়ে দেয়া হলেও ওই ঘটনার কারণে পরিবারকে মানসিকভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর র্যাব-১১ এবং পরে সিআইডি মামলাটির তদন্ত করলেও দীর্ঘ দুই বছরেও প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে স্বপ্নার পরিবার দাবি জানায়, মামলাটির পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে। এই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। তদন্তের নামে পরিবারকে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগেরও পৃথক তদন্ত দাবি করেন তারা।
স্বপ্নার মা বলেন, ‘একজন মা হিসেবে আজও আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার পাইনি। আমরা নিরাপত্তাহীনতা ও বিচারহীনতার যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় একদিন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশা করি।’
সংবাদ সম্মেলনে স্বপ্নার বাবা মোহাম্মদ খোকাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মামলার অগ্রগতির বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিআইডির দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে সিআইডি গভীরভাবে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন দেয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তকে চিহ্নিতের জন্য কাজ চলমান রয়েছে।’





