সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এক গাড়িতেই বাসাবাড়ি ও বাজারের ময়লা-আবর্জনা সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে এনে ফেলে। কাগজ, প্লাস্টিক, নষ্ট খাবার, পলিথিন, ফোম, মেডিকেল বর্জ্যসহ সব বর্জ্যই দেখা যায় ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা জানান, কাচ ভাঙা, ইনজেকশনের সুঁই ফালাচ্ছে। ফলে অনেক সময় হাতেও বিধছে।
গবেষণা বলছে, গড়ে প্রতিদিন ৬০০ টন বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে। ফলের মৌসুমে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৮০০ টনে। যার ৬৫ থেকে ৭০ ভাগই জৈব। বাকি অংশ পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য, যাতে পলিথিনের পরিমাণেই বেশি। মেডিকেল বর্জ্যসহ সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে নিয়ে আসা সব ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ডাম্পিং স্টেশনে। এসব বর্জ্য পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ডাম্পিং স্টেশনের আশপাশের ১০টি গ্রামে। বাসিন্দারা জানান, এখানের গন্ধ বাতাসের কারণে মাসের ভেতরে দুই-তিনবার ডাক্তারের কাছে যাওয়া লাগে।
গবেষকরা বলছেন, বর্জ্যের ক্যাটাগরি আলাদা করতে বাসাবাড়ির সাধারণ মানুষকেই এ কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে বর্জ্যের পরিমাণ কমবে।
আরও পড়ুন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এন এম রবিউল আউয়াল চৌধুরী বলেন, ‘বর্জ্যের ক্যাটাগরি আলাদা করে সেপারেট করতে হবে। তারপর এক একটা জিনিসকে এক একভাবে ম্যানেজ করতে হবে। যেটা পচনশীল—যেমন আমের খোসা, কাঁঠাল পচনশীল, এটাকে আপনি একভাবে ম্যানেজ করবেন। এ পুরো প্রক্রিয়াটাতে আমরা মানুষকে এনগেজ করতে চাই না। মানুষকে এনগেজ না করলে হবে না।’
সিটিতে বর্জ্য বাড়তে থাকলেও এর ব্যবস্থাপনা এখনও কাগজে কলমে। এরই মধ্যে ব্যবস্থাপনা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ঝাঁকুনি পাড়ায় সাড়ে ৫ একর জমির ওপর আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র তৈরি করা হবে। ২০২৯ সাল নাগাদ বর্জ্য থেকে সার ও জ্বালানি উৎপাদিত হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘আমাদের যে ওয়েস্ট আছে, এটার মাধ্যমে কোনো ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় কি না এবং এটা নিয়ে আমাদের প্রশাসক মহোদয় এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন এবং মন্ত্রণালয় থেকে একটা টিম আসারও প্ল্যান রয়েছে। তো আমরা আশা করছি, ওই টিম আসলেও এ ওয়েস্ট থেকে কোনো ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় কি না সে বিষয়টাও আমরা চিন্তা করব।’
কুমিল্লায় প্রতিদিন গড়ে ৬০০ টন বর্জ্য উৎপাদন হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এর সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্জ্য পৃথকীকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে প্লাস্টিক-কাগজ পুনর্ব্যবহারের পাশাপাশি জৈব বর্জ্য থেকে সার ও জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





