সাতক্ষীরা সদরের সঙ্গে দেবহাটা, কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়ক সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগীসহ লাখো মানুষ।
৬২ দশমিক ৩২৫ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও উন্নয়নকাজ শুরু হলেও তা এগোচ্ছে ধীরগতিতে। কোথাও খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখা হয়েছে সড়ক, কোথাও আবার নির্মাণকাজ পড়ে আছে অসমাপ্ত অবস্থায়। ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে প্রতিদিন।
বর্ষাকালে অনেক বেশি সমস্যা হচ্ছে। কোথায় গর্ত আছে, কোথায় কী আছে বোঝা যাচ্ছে না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ, ধুলাবালি ও নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী, চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘যেখানে এক ঘণ্টায় পৌঁছাতাম, সেখানে আমাদের আড়াই ঘণ্টা লাগতেছে। কোনো সময় টায়ার ব্লাস্ট হচ্ছে, কোনো সময় রিং বাস্ট হচ্ছে। যা কামাই করতেছি, তাছাড়া ডেমারেজ বেশি।’
এদিকে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, বৃষ্টি শুরু হলে কাদামাটি ও জলাবদ্ধতায় সড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়বে। এতে সাতক্ষীরা থেকে উপকূলীয় শ্যামনগরসহ কয়েকটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজের গতি কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি সড়কের পাশে থাকা পল্লী বিদ্যুতের কয়েক হাজার খুঁটি অপসারণ না হওয়ায় কাজ বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তারা।
সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘অধিক সংখ্যক পোল যে এখনও রয়েছে, এর ফলে আমাদের বিভিন্ন স্থানে প্রশস্তকরণ কিংবা রিজিড রাস্তা তৈরি করা ফলে সব কাজই এখন স্থবির হয়ে গেছে। এ পোলগুলো যদি দ্রুত অপসারণ করা যেত, তাহলে আমরা আগামী জুনের মধ্যে আমাদের মূল যে কাজটা সে সম্পন্ন করতে পারতাম।’
সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়কটি এই অঞ্চলের অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উপকূলীয় যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি স্থানীয়দের।





