ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি সাধারণ ভ্যারাইটিজ দোকান। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই, দোকানের সামনেই লুকিয়ে আছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। মাত্র ৬ ফুট লম্বা ও ৪ ফুট চওড়া একটি চৌবাচ্চা। আর সেই ছোট্ট জায়গাতেই চলছে দেশি প্রজাতির শিং ও মাগুর মাছের চাষ। পথচারীরা থেমে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ জানতে চাইছেন এত ছোট জায়গায় কীভাবে সম্ভব মাছ চাষ?
যশোরের চৌগাছা উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের রাম প্রসাদের এ উদ্যোগ শুরু হয় প্রায় দুই বছর আগে। দোকানের সামনের অব্যবহৃত জায়গাটিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করেন চৌবাচ্চা। শখ থেকেই শুরু হলেও এখন এটি শুধু সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, পরিবারের মাছের চাহিদাও পূরণ করছে।
চৌবাচ্চায় মাছ চাষি রাম প্রসাদ বলেন, ‘মাছ ছাড়ার পর দেখলাম কি রকম হয়। তারপর আস্তে আস্তে দেখলাম মাছ ভালোই বড় হয়। তারপর নিজেদের পুকুর থেকে মাছ আরও দেয়া হয়েছে। তিন মাস পর পর মাছ বিক্রি করে ভালোই লাভবান হওয়া যাচ্ছে।’
আরও পড়ুন
শুধু মাছ চাষই নয়, এটি এখন যেন একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে দেখে যাচ্ছেন এ উদ্যোগ। কেউ শখের বশে, আবার কেউ নিজের বাড়িতে একই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার পরিকল্পনা নিয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘আসলে দোকানের সামনে সৌন্দর্যটাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এটা একদম যেহেতু ইউনিক তাই এলাকায় খুব সাড়া পড়েছে।’
বাড়ির আঙিনা কিংবা অব্যবহৃত ছোট জায়গায় চৌবাচ্চা তৈরি করে মাছ চাষকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, ‘পুষ্টির চাহিদার জন্য যে পুকুর, ঘের-এ যে মাছ চাষ করা হয়, তারই আলোকে শহরের লোকজন বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করছে তা আমার জানা ছিলো না। ইতিবাচক তো অবশ্যই। এভাবে যদি আস্তে আস্তে কেউ বাণিজ্যিক আকারে আসে, বড় আকারে আসে, তাহলে আমরা তাদের অবশ্যই সহযোগিতা করব।’
ছোট জায়গা, সীমিত খরচ আর একটু আগ্রহ—এ তিনটি বিষয়ই বদলে দিতে পারে মাছ চাষের প্রচলিত ধারণা। রাম প্রসাদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন কেবল তার পরিবারের নয়, আশপাশের মানুষের কাছেও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার গল্প।





