অবৈধ বালু উত্তোলনে তীব্র হচ্ছে যমুনার ভাঙন, অভিযোগ স্থানীয়দের

যমুনা নদী ভাঙন
যমুনা নদী ভাঙন | ছবি: এখন টিভি
0

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। হুমকির মুখে পড়েছে চারতলা একটি মাদ্রাসা ভবনও। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু তোলায় ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

তিন দফা নদীভাঙনের ক্ষত বুকে নিয়েও ২০ বছর আগে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী গ্রামে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন শান্তি বেগম। রোববার (৫ জুলাই) রাতে পদ্মা-যমুনার আগ্রাসী স্রোত আচমকা নদী গর্ভে চলে গেছে তার শেষ সম্বল বসত-ভিটুকুও।

শান্তি বেগম বলেন, ‘তিনবার নদী ভাঙার ফলে, চার ছেলে নিয়ে এখন কোথায় যাবো জানি না? ঘরে চালও নাই, ডালও নাই। এখন কী করবো? থাকার কোনো জায়গা নেই। হাতেও কোনো টাকা নাই।’

শুধু শান্তি বেগমই নন, বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় অনেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন ঘরবাড়ি। কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে কিংবা স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। নদী ভাঙনে পড়া স্থানীয়রা জানান, এখন আর তাদের যাওয়ার মতো কোনো জায়গাও নেই।

আরও পড়ুন

এদিকে, ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা। যমুনা নদী থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে থাকা চারতলা ভবনের সীমানা দেয়াল এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি ভবনও যে কোনো সময় নদীতে হারিয়ে যেতে পারে।

মাদ্রাসার একজন ছাত্র বলেন, ‘মাদ্রাসা যদি নদীতে ভাঙে যায়, তাহলে আমাদের পড়াশোনা করার মতো কোনো জায়গা নেই।’

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বালি দ্বারা আবৃত এই চরটা, সেখানে ১ পার্সেন্টও মাটি নাই, সম্পূর্ণরূপে বালি। এখন ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যেই মানুষ বসবাস করে। ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে যদি মানুষের জীবনযাত্রার মান আমাদেরকে সুরক্ষা করতে হয়, অবশ্যই আমাদের ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে হবে। ফিজিবিলিটি স্টাডি পূর্বক নদী ভাঙন রক্ষা করতে হবে, তার পরবর্তী যখন যদি মানুষ এখানে বসবাস করে, সেটা আরও বেশি টেকসই হবে।’

যমুনার অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। নদীর আগ্রাসন থামাতে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া না হলে বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

জেআর