নেত্রকোণায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নদীর ভাঙনে নতুন খাল, ঝুঁকিতে মসজিদ

পাহাড়ি ঢলে নদীর ভাঙনে খাল
পাহাড়ি ঢলে নদীর ভাঙনে খাল | ছবি: এখন টিভি
0

মেঘালয়ের ভারী বর্ষণে নেত্রকোণার ঢলের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ঢলের তোড়ে ভেঙে পড়া বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি এখন সামনে আসছে। নেতাই নদীর আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের বন্দউষান গ্রামে পাড় ভেঙে পানি ঢুকেছে আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দউশান হাজী বাড়ি জামে মসজিদ।

স্থানীয়রা কোনোরকমে বালু ফেলে সাময়িক রক্ষা করলেও যেকোনো সময় বিলীন হতে পারে পুরো মসজিদ এমন শঙ্কায় স্থানীয়রা। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ২০ একরের বেশি আমনের বীজতলা। ভেসে গেছে বিভিন্ন পুকুর ও মাছের ঘের।

ঢলের পানিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় দুই দিনের ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন আশপাশের কয়েকটি গ্রাম। ফলে সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় নানা কাজে।

এরইমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। ভাঙন মোকাবিলার পাশাপাশি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তারা।

তবে পানি কমলে প্রাথমিকভাবে ভাঙন মোকাবিলায় যাবতীয় কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তারা।

এছাড়াও পাহাড়ি ঢলে সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দার পাহাড়ি গণেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে সড়ক উপচে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীপাড়ের গ্রামীণ সড়ক। গজারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আংশিক অংশ ভেঙে যায়। ফলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় সীমান্ত ইউনিয়ন খারনৈয়ের গজারমারি গ্রামের গ্রামীণ সড়কে।

আরও পড়ুন:

এদিকে সোমেশ্বরীর শাখা নদী উব্দাখালীর পানি ৯ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা গতকাল (সোমবার, ২০ জুলাই) ছিল বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপরে।

অন্যদিকে দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী ও জারিয়া কংশ পয়েন্টেও পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি না থাকলে পানি দ্রুত আরও কমে যাবে বলেও মনে করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয়রা।

গাওকান্দিয়ার বন্দউষান গ্রামের ইমরান মিয়া জানান, গত রোববার (১৯ জুলাই) সকাল থেকে উজানের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেতাই নদীর পানি বেড়ে বন্দউষান হাজী বাড়ি জামে মসজিদের সামনের অংশ ভেঙে যায়। ফলে এই ভাঙন দিয়েই আশপাশের কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করে।

প্রথম দিকে ভাঙনটি ছোট থাকলেও পানির স্রোতে ক্রমান্বয়ে বড় হতে থাকে এই ভাঙন। এখন প্রায় ১০০ মিটারের অংশ পানিতে ভেঙে গেছে। মসজিদটি পুরোপুরি ঝুঁকিতে রয়েছে‌।

আরও পড়ুন:

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মৌলভীবাজার থেকে বন্দউষান হয়ে পাঁচ কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। পানিতে কৃষকের কিছু বীজতলা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আমরা যাচাই-বাছাই করে প্রণোদনা বা অনুদান দেয়ার চেষ্টা করবো।’

আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢলে নেতাই নদীর পানি বৃদ্ধি পায় এবং বন্দউশান গ্রামে নেতাই নদীর পাড় থেকে একটা অংশ ভেঙে যায়। এই জায়গাটা আগের বছরগুলোতেও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আর পাড়ের পেছনের অংশটা নিচু থাকার কারণেই পানির স্রোতে স্থানটি ভেঙে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে এটা অবজারভেশন করছি এবং আমি নিজেও পরিদর্শন করেছি। আমরা দ্রুতই এই স্থানটিতে জিও ব্যাগ ফেলে মেরামত করে দেবো। যাতে করে নতুন করে নদীর পানি এই দিক দিয়ে আর প্রবাহিত না হতে পারে। তবে নতুন করে এখন আর বৃষ্টি না হওয়ায় নদ নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।’

এসএস