এবার আগেভাগেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। ময়মনসিংহ মেডিকেলে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী। তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি, ডায়রিয়াসহ নানা উপসর্গ নিয়ে আসছেন রোগীরা।
জুলাইয়ের ২ তারিখ থেকে ডেঙ্গু আইসোলেশন ওয়ার্ডে বুধবার পর্যন্ত ভর্তি হওয়া ২৪২ রোগীর মধ্যে ১০৩ জনই ময়মনসিংহ নগরীর। আক্রান্তদের বেশিরভাগই নগরীর নওমহল, আকুয়া মাদ্রাসা কোয়ার্টার, লিচুবাগান, বাউন্ডারি রোড, হাজীবাড়ি, নতুন বাজারসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দা।
নগরীর আকুয়া মাদ্রাসা এলাকায় এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল আউয়াল শেখ। তীব্র জ্বর, মাথা ব্যথাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে বুধবার ভর্তি হয় ময়মনসিংহ মেডিকেলে। দ্রুত কমছে রক্তের প্লাটিলেট। ভর্তির পর থেকে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে তাকে। একই অবস্থা অন্য রোগীদেরও।
হাসপাতালের নির্মাণাধীন ড্রেনগুলো যেন মশার প্রজনন কেন্দ্র। মশার লার্ভায় সয়লাব স্বচ্ছ পানির এই ড্রেন। এছাড়া নগরীর আবর্জনাযুক্ত ড্রেন-খালগুলোতেও মিলছে মশার লার্ভা। অপরিচ্ছন্ন বাড়ির আঙিনা, কনস্ট্রাকশন সাইটে জমে থাকা পানি ও ঝোঁপঝাঁড়েও বিস্তার বাড়ছে মশার। এতে নতুন করে ডেঙ্গুর চোখ রাঙানিতে শঙ্কিত নগরবাসী। নগরবাসীরা জানান, চারপাশের ময়লার কারণে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে।
ডেঙ্গুর হটস্পট ৬টি ওয়ার্ডকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চলছে বলে জানান সিটি প্রশাসক। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান সরকার রোকন বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। ড্রেন, রাস্তা, খাল খনন পরিষ্কার করছি। আমরা জঙ্গল পরিষ্কার করছি। বিভিন্ন স্কুল-কলেজগুলো আমরা বিশেষ স্প্রে করছি। জনগণ যেন একটু সচেতন হয়—তার বাড়ির ছাদটা, তার বাড়ির পিছনটা পরিষ্কার আছে কিনা।’
এদিকে, এডিসের লার্ভা ধ্বংস করতে না পারলে ডেঙ্গু ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ড. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দিন খান বলেন, ‘ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুরু থেকেই আমরা ডেঙ্গু আইসোলেশন ওয়ার্ড করেছি। এটার মাধ্যমে আমরা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদেরকে সেবা দিচ্ছি। আমাদের ডাক্তার এবং নার্সসহ আমাদের যে টিম আছে, সেই টিম কাজ করছে।’
ময়মনসিংহ বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, ‘চিকিৎসার ক্ষেত্রে এবং ডায়াগনসিসের ক্ষেত্রে সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে লোকজনদের সচেতন করা এবং ডেঙ্গুর উৎপত্তিস্থলকে ধ্বংস করে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণ করা।’
চলতি বছর ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয় ৩৪৬ জন রোগী।





