গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে কমেছে শিল্প উৎপাদন

শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছে শ্রমিকরা
শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছে শ্রমিকরা | ছবি: এখন টিভি
0

নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি করছে বিদ্যুৎ ঘাটতি। এই অবস্থায় ভোগান্তিতে শিল্প ও পরিবহণ খাতের অন্তত আট লাখ মানুষ। প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন কমে যাওয়ায় কারখানাগুলোতে কমেছে লেনদেন।

শিল্পনগরী নরসিংদীতে মিলছে না পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ। একইসঙ্গে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে জেলার শিল্পকারখানাগুলো। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় কারখানার কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে গত দু’সপ্তাহ ধরে।

নরসিংদীর মাধবদী ও সদরের চৌয়ালাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের ডাইং ও ফিনিশিং, প্রিন্টিং অ্যান্ড প্রসেসিংসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১২ হাজারের বেশি ছোটবড় শিল্পকারখানায় লেনদেন কমেছে ৪০ শতাংশের বেশি।

শিল্পকারখানাগুলোর মালিকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের যা সমস্যা হচ্ছে, শ্রমিকদের বেতন তারা পাইতেছেন না। মালিকের লস হইতেছে। আমরা যারা উৎপাদনকারী আছি—মালিক পক্ষ, শ্রমিক—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত।’

শ্রমিকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘গ্যাসের সংকটের কারণে আমাদের ফ্যাক্টরি মোটামুটিভাবে বন্ধ বললেই চলে। আগে ১২ ঘণ্টায় যে একটা শ্রমিক ১২ ঘণ্টা ডিউটি করতো, সেই জায়গায় একটা শ্রমিক চার ঘণ্টাও ঠিকমত ডিউটি করতে পারতেছে না।’

শিল্পখাতের পাশাপাশি ধুকছে ফিলিং স্টেশনগুলোও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ— এই সংকটের সময়েও কিছু ফিলিং স্টেশনে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সিলিন্ডার ভর্তি ঝুঁকিপূর্ণ কন্টেইনারে দেয়া হচ্ছে গ্যাস।

আরও পড়ুন:

চালকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘তোমরা কয় টাকার গ্যাস লও? আমরা তো লরিরে এই গ্যাস দেই বেশি টাকা। তখন বললাম, লরিতো স্যার বললো ৯টার পরের থেকে লরিরে দেয়ার জন্য। বলতেছে, তোমরা এইনতে যাওগা, তোমরারে দিলে দিমু, না দিলে নাই।’

অন্য একজন বলেন, ‘গাজীপুর থাইকা বিভিন্ন ট্রলি আইসা আমাদের এখানে লাগায় থুয়ে দিত। কন্টেইনার আইনা লাগায় থুইতো, কিন্তু আমরা আসলে গ্যাস পাচ্ছি না। আজকে এই ৪-৫ দিন ধইরা আমরা টোটালি গ্যাস পাই না।’

যদিও অবৈধভাবে সিলিন্ডারে গ্যাস দেয়ার এমন অভিযোগের বিষয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোর দাবি— রাজনৈতিক চাপে পড়ে তারা কন্টেইনারে গ্যাস দিচ্ছেন। দাঁড় করালেন ভিন্ন ব্যাখ্যা।

স্টার সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘দিনের বেলা ছোট গাড়ির চাপ থাকে, ছোট গাড়িতে দেয়ার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হয়েছিল। তখন দিনের বেলা দেয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়া হইছে। শুধু রাতের বেলা কারখানার দিকে চিন্তা করে বলা হয়েছিল।’

গ্যাস সংকট এবং অবৈধভাবে সিলিন্ডারে গ্যাস দেয়ার অভিযোগ এবং সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জানতে একাধিকবার তিতাস গ্যাস এর মিডিয়া অ্যান্ড জনসংযোগ ব্যবস্থাপকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কবলে নরসিংদীর শিল্পখাতে ভোগান্তিতে অন্তত পাঁচ লাখ শ্রমিক -কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট মানুষ। এছাড়া পরিবহণ খাতে প্রত্যক্ষ ভোগান্তিতে আরও অন্তত তিন লাখ মানুষ।

এসএস