দেড়শো বছরেরও বেশি পুরনো সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ সমস্যা নিরসনে ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় চলছে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ। কিন্তু ভরা বর্ষায় একসঙ্গে একাধিক সড়ক খুঁড়ে কাজ শুরু করায় উন্নয়ন প্রকল্পই এখন শহরবাসীর কাছে বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খনন করা মাটি ও নির্মাণসামগ্রী পড়ে আছে সড়কের উপর। টানা বৃষ্টিতে কোথাও জমেছে কাদা, কোথাও পানিতে ভরে আছে খনন করা ড্রেন। ভিটেবাড়িতে যাতায়াতের জন্য অনেক বাসিন্দাকে তৈরি করতে হয়েছে বাঁশের অস্থায়ী সাঁকো। বেশ কয়েকটি বাড়ির প্রাচীর, গেট ও রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ সব দেখার কোনো ব্যক্তি নেই, যার কারণে বিগত আড়াই-তিন বছর এভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের।
আরও পড়ুন
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনের নকশা তৈরি হয়েছিল অনেক আগে। পরবর্তীতে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উঁচু করা হলেও ড্রেনের পুরনো নকশায় সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে কোথাও কোথাও নির্মাণাধীন ড্রেন মূল সড়কের তুলনায় নিচু হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, ‘বর্তমানে এ সব কাজ মরণফাঁদ বলা যায়। সন্ধ্যার পরে কোনোভাবে চলাচল করা যায় না।’
তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, নানাবিধ কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় নাগরিকদের সমস্যা হয়েছে। দ্রুত চলমান কাজ শেষ করা হবে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাগর দেবনাথ বলেন, ‘কাজ চলছিল ঠিকই, কিন্তু অতিবৃষ্টি ফলে উন্নয়ন কাজগুলো একটু ব্যাহত হয়েছিল। আমরা ঠিকাদারকে প্রত্যেকেই চিঠি দেয়া হয়েছে খুব দ্রুতই কাজটি বাস্তবায়নের জন্য। সেই অনুপাতে ঠিকাদার খুব দ্রুত কাজ শুরু করছে। ৯টি ওয়ার্ডেই কাজের গতি এখন মোটামুটি ভালো।’
৩৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণকাজের এখন পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ২৫ শতাংশ। ৪ বছর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেএফডব্লিউ প্রকল্পের আওতায় ৮টি সড়ক ও ৪টি ড্রেন নির্মাণের কাজ পায় বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেড।
কার্যাদেশ পাওয়ার দীর্ঘ সময় পার হলেও শুকনো মৌসুমে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ না করে, বর্ষায় খনন শুরু হওয়ায় ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়েছে। শহরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নিশ্চিত করা হোক পরিকল্পিত ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা।





