বেড়িবাঁধ উঁচু করতে গিয়ে কাদার ফাঁদে ৪৫ কিলোমিটার সড়ক, দুর্ভোগে বরগুনাবাসী

কাদা রাস্তায় মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছেন এক বাবা
কাদা রাস্তায় মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছেন এক বাবা | ছবি: এখন টিভি
0

ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে বাঁচতে বরগুনায় উঁচু করা হয়েছে বেড়িবাঁধ। কিন্তু বাঁধ উঁচু করার এই উদ্যোগে বলি হয়েছে যোগাযোগের প্রধান পথগুলো। বরগুনার প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পিচঢালা সড়ক এখন পরিণত হয়েছে কাদামাখা চরম দুর্ভোগের ফাঁদে। কোনো যানবাহন না চলায় রোগী, শিশু ও কৃষকদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

একসময়ের পিচঢালা পাকা সড়ক এখন কাদা-পানির জলাশয়। সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হয় ছোট-বড় গর্ত, বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। দূর থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই এটি বরগুনার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় বরগুনায় তৈরি হয়েছে ৮০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। বিকল্প না থাকায় এসব বাঁধকেই চলাচলের জন্য ব্যবহার করে স্থানীয়রা। জলবায়ু পরিবর্তনে জোয়ারের পানি বাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধগুলো উঁচু করতে গিয়ে উঠিয়ে ফেলে রাস্তার কার্পেটিং। ফলে তিন উপজেলার অন্তত ৪৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক পরিণত হয়েছে কাদা রাস্তায়। এতে চরম ভোগান্তিতে সদর, তালতলী ও পাথরঘাটার হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘হাঁটতে পারি না, বাচ্চা নিয়ে যাইতে পারি না, আসার সময় আসতে পারি না।’

অন্য একজন বলেন, ‘পাকা রাস্তা কাইট্টা তারা রাস্তা বেড়িবাঁধ তৈরি করছে। সেক্ষেত্রে এখন মানুষ চলাচল, গাড়ি চলাচলের কোনো উপযোগী ব্যবস্থা নাই।’

আরও পড়ুন:

বাসিন্দাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘অনেক অসুবিধা, মানে তাদের ব্যাগ, কাপড়চোপড় তাদের সব। স্কুলে আসার মানে একবার চেঞ্জ করতে হয়, তারপর আর বাড়ি যাইয়া আরেকবার চেঞ্জ করতে হয়।’

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ রোগীরা। মাইলের পর মাইল হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। কাদা রাস্তায় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।

জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বিবেচনায় বেড়িবাঁধ উঁচু করা হয়েছে। এলজিইডি এসব বাঁধ পাকা করতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ছাড়পত্র দেয়া হবে বলে জানান প্রকৌশলী।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, ‘দুর্যোগকে আমরা যদি প্রধান প্রায়োরিটি বলি, সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সেহেতু দুর্যোগ বিবেচনায় রেখে আমরা মানুষের জানমাল রক্ষায় এই বেড়িবাঁধগুলো উঁচু করে থাকি এবং বরগুনা জেলায়ও বেশ কিছু জায়গায় বেড়িবাঁধ উঁচু করা হয়েছে। যদি এগুলো আবার সরকার পাকা করতে চায়, কার্পেটিং করতে চায়, তাহলে এলজিইডির সঙ্গে আমাদের একটা কেন্দ্রীয় এমওইউ আছে সমঝোতা স্মারক, সেটার আলোকে এলজিইডি যদি আমাদের কাছে এনওসি চায় এবং সেটা যদি বাঁধ উঁচু থাকে, সেটা আমরা পাকা করার জন্য এনওসি দিয়ে থাকি।’

আরও পড়ুন:

কাগজে-কলমে সড়কগুলো এখনো পাকা হিসেবেই তালিকাভুক্ত বলে জানায় এলজিইডি। তবে শিগগিরই তথ্য সংশোধন করে এগুলো পুনর্নির্মাণের আশ্বাস তাদের।

বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, ‘ইনভেন্টরি যেটা আমাদের আছে রোড ইনভেন্টরি, সেটা কারেকশন হয়ে যাওয়ার পরে ওই রাস্তাগুলোকে নতুন করে পাকা করার জন্য আমরা উদ্যোগ নেবো বা বিভিন্ন প্রকল্পের প্রস্তাব করবো। যতদিন পর্যন্ত ইনভেন্টরি কারেকশন না হচ্ছে, ততদিন ওই রাস্তাগুলোকে আমরা পাকা করার জন্য নতুন করে প্রস্তাব করতে পারছি না।’

জলবায়ু সুরক্ষায় বাঁধ উঁচু করা জরুরি হলেও কাদাযুক্ত হওয়ায় থমকে গেছে জনজীবন। সমন্বয়হীনতার অজুহাতে আটকে থাকা এই রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি স্থানীয়দের।

এসএস