২০১৯ সালে সবশেষ ভারত সফরে গিয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এরপর ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে ছেদ পরে এশিয়ার দুই পরাশক্তির অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে। তবে উত্তপ্ত সম্পর্কের কিছুটা বরফ গলে গেল বছরের আগস্টে চীনের তিয়ানজিয়ানে সাংহাই কো-অপারেশন সামিটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
এরই ধারাবাহিকতায় নয়াদিল্লিতে আগামী শনিবার ও রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চীনের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন।
সম্মেলনের ফাঁকে সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নেবেন শি জিনপিং-মোদি। বেইজিংয়ের প্রত্যাশা, ভারতের বিনিয়োগে ইচ্ছুক চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে নয়াদিল্লি।
আরও পড়ুন:
চীনের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘আমরা আশা রাখি, মোদি প্রশাসন ভারতে বিনিয়োগকারী ও কর্মরত সব দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সুষ্ঠু, ন্যায়সঙ্গত ও বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রদান করবে।’
এদিকে শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফর দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে কতটুকু সহায়ক হবে তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন কূটনৈতিক সম্পর্কে গতি ফিরলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় এখনও মন্থর দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কড়াকড়ির কারণে এখনও ভারতে বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ পাচ্ছে না বেইজিং। অন্যদিকে ভারতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের লাইসেন্স ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির এক্সেস পেতে ক্রমাগত বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক জয়তী ঘোষ বলেন, ‘ভারত-চীন সম্পর্ক জটিল। সীমান্ত বিরোধ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও, এর কার্যকর সমাধান আসেনি। এছাড়াও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও অসম।’
তবে ভারতের মতো বড় অন্যতম বড় বাজারকে উপেক্ষা করতে চায় না চীন। আর ভারতের বাজারে চীনের ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের প্রচুর চাহিদা আছে। একারণে নয়াদিল্লিও চায় চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে। তাই সব মিলিয়ে শি জিনপিংয়ের ভারত সফর বেইজিং- নয়াদিল্লি বাণিজ্যিক সম্পর্কে গতি ফেরাতে পারে বলে আশাবাদী বিশ্লেষকরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে কি নতুন জোট গঠন করতে যাচ্ছে বেইজিং- চীন। ব্রিকস সম্মেলনের আগে নতুন করে এই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনটা না হলেও কৌশলগত কারণে তিক্ত সম্পর্কের বরফ গলাতে উদ্যোগী এশিয়ার দুই পরাশক্তি।





