পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে ইলিশ সরবরাহে ধস, রাজস্ব আয়ে ধাক্কা

পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে ইলিশ সরবরাহে ধস
পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে ইলিশ সরবরাহে ধস | ছবি: এখন টিভি
0

বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে ধস নেমেছে রূপালী ইলিশের সরবরাহে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের সংগৃহীত মাছের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি। শুধু ইলিশ অবতরণই কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। নির্বিচারে পোনা নিধন ও অবৈধ ট্রলিংয়ের মতো মানবসৃষ্ট কারণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনকেও দায়ী করছেন জেলেরা। মাছের এই আকালে বাজার মূল্যের পাশাপাশি ধাক্কা খেয়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ও।

বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম মৎস্য বাণিজ্যকেন্দ্র। যে ঘাটে একসময় ট্রলার ভর্তি ইলিশ আর হাঁকডাকের ব্যস্ততা থাকতো, সেখানে এখন অনেকটাই হতাশা। চলতি বছরে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে সামুদ্রিক মাছ আহরণ।

প্রাকৃতিক পরিবর্তন, নির্বিচারে পোনা-রেণু আহরণ এবং নিষিদ্ধ পদ্ধতির ট্রলিং, মাছের স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধিতে বাধা বলে অভিযোগ জেলেদের। সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অসাধু উপায়ে মাছ শিকার বন্ধে এখনই কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তাদের।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর মোট মাছ আহরণ হয়েছিলো ৪২৯ দশমিক ২২ টন। এর মধ্যে ইলিশ ছিলো ৩১৭ দশমিক ৪০ টন এবং অন্যান্য মাছ ১১১ দশমিক ৮২ টন। কিন্তু চলতি বছর মোট মাছ আহরণ হয়েছে ৪০৫ দশমিক ৯৫ টন, যা ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। এর মধ্যে ইলিশ আহরণ হয়েছে ১৮৯ দশমিক ১০ টন, যা ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম।

মাছের এমন আকালের প্রভাব পড়েছে বাজারে এবং সরকারি রাজস্বে। ২০২৫ সালে ৩৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হলেও এবার হয়েছে ২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার। সরকারের রাজস্ব আয় এক বছরে কমেছে ৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বা সাড়ে ২৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন:

নদী গবেষকদের মতে, মৎস্য সম্পদ স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য নির্দিষ্ট মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করাই যথেষ্ট নয়; বরং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জরুরি ও কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এই ট্রলিং জাহাজ দিয়ে যে পরিমাণ মাছ ধরছে, এর ফলে ছোট মাছ থেকে সব ধরনের মাছের লার্ভি মারা যাচ্ছে। তার মানে, উপকূলের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর এই ট্রলিং বোটগুলোকে বন্ধ করতে হবে, যাতে এই উপকূলের ৪০ মিটার গভীরতায় এসে যাতে এই বোটগুলো মাছ ধরতে না পারে।’

মৎস্য বিভাগের মতে, অবৈধ ট্রলিং নৌযানের মালিকদের কারণে মাছ শিকার সম্পূর্ণ বন্ধ করা চ্যালেঞ্জিং। তবে, সকল বাধা অতিক্রম করে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস এই মৎস্য কর্মকর্তার।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘মৎস্য আইন ও বিধিমালায় ট্রলিং বোটকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কাজেই এর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ অব্যাহত আছে। আমাদের লজিস্টিক সাপোর্ট আছে, আমরা চেষ্টা করছি।’

উপকূলীয় অর্থনীতি আর ইলিশের ঐতিহ্য রক্ষায় কেবল কোস্ট গার্ড বা মৎস্য অধিদপ্তরের তদারকিই যথেষ্ট নয়; প্রজনন মৌসুমে সাগরে বেআইনি মৎস্য শিকার সম্পূর্ণ বন্ধে দরকার কঠোর বাস্তবায়ন।

এসএইচ