দুর্গাপূজা ঘিরে উৎসবের আমেজ বগুড়ায়; প্রস্তুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে
প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে | ছবি: এখন টিভি
0

শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। বগুড়ার মণ্ডপে মণ্ডপে ব্যস্ততা বেড়েছে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের। শুক্রবার থেকে রং তুলির আঁচড় পড়বে প্রতিমাগুলোতে। আনন্দের এই আয়োজনে এবার কিছুটা বাড়তি খরচ ভাবাচ্ছে আয়োজকদের। উৎসবে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ, আনসার ও এসআরবি তৎপর থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

শরতের নীল আকাশে মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর শিউলির সুবাস। এর মাঝেই ঢাকের শব্দে মাতবেন সনাতন ধর্মালম্বীরা। প্রস্তুতি চলছে দুর্গোৎসবের।

বরাবরের মতো আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব আয়োজনে বগুড়ার পূজা মণ্ডপে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। বাড়িতে, বাড়িতে চলছে উৎসবের আমেজ। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই কিনছেন নতুন জামা-কাপড়। বাড়িতে বাড়িতে তৈরি হচ্ছে মুড়ি-মোয়াসহ বাহারি খাবার। এবার দুর্গোৎসব ভালই হবে-এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, ‘আত্মীয়রা আসবেন, তারাও বিভিন্ন মণ্ডপে যাবেন। নাড়ু-মোয়া তৈরিতে ব্যস্ত তারা। কোনো প্রকার বাধা-বিপত্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের এ অনুষ্ঠান চলছে বলে জানান তারা।

শিল্পীর নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। তবে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবছর প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে। মাটি, খড়, বাঁশ, রং ও সাজসজ্জার উপকরণের সমন্বয়ে প্রতিমা তৈরির খরচ নেহায়েত কম নয় বলে জানান কারিগররা। ফলে পূজার আয়োজনে বাড়তি চাপ পড়েছে সাধারণ সনাতন ধর্ম্বালম্বীদের। দামও কিছু বেড়েছে প্রতিমা ক্রয়ের।

প্রতিমার কারিগররা জানান, এবছর প্রতিমার চাহিদাটা বেশি। সেই সঙ্গে দামও একটু বেশি আছে, কিন্তু অন্য অন্য খরচের চেয়ে তাদের লাভ একটু কম দেয়া হয় বলে অবিযোগ তাদের। খড়, বাঁশ, মাটি, লোহা, সুতলি, দড়িতে সবগুলোরই মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। এমনকি রঙেও বৃদ্ধি হয়েছে। তারা সে তুলনায় তুলনায় পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না।

এদিকে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বগুড়া জেলা পুলিশ। সিসি ক্যামেরায় নজরদারি, পুলিশ, আনসারসহ গ্রাম পুলিশ থাকবে মণ্ডপের নিরাপত্তায়। সেই সাথে বগুড়া শহরের ভেতরের মণ্ডপে যাতায়াতে, যানজট কমাতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকটা থানায় এবং বিশেষ করে সদরে যেগুলো আছে আমরা টহলের ব্যবস্থা থাকবে আমাদের। প্রত্যেকদিন আমাদের পুলিশ তাদের টহল নিবে। আমাদের যে বিট অফিসাররা আছে, তা তাদের যে নিয়ন্ত্রণাধীন যে এলাকা থাকবে, সে এলাকায় তাদের টহলের ব্যবস্থা থাকবে দিনে এবং রাতে, দুই বেলাতেই।’

জেলার মোট ৭৩১টি পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মণ্ডপগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ, অতি গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ তিন ভাগে ভাগ করেছে পুলিশ প্রশাসন।

এফএস