গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রেম করে বিয়ে করে জান্নাতুল ফেরদৌস ও রাজা মিয়া। দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে হলেও রাজা মিয়া তার প্রথম বিয়ের কথা গোপন রাখে। কিছুদিন পরই বিষয়টি জানাজানি হলে শুরু হয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব। এসময় স্ত্রী হত্যার পরিকল্পনা আঁটেন রাজা মিয়া। প্রথমে যান কবিরাজের কাছে। ঝাড়ফুক আর তন্ত্রমন্ত্রের স্ত্রী মারা না যাওয়ায় হত্যার বিকল্প পরিকল্পনা করেন রাজা মিয়া।
২৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেড়ানোর কথা বলে জান্নাতুলকে নিয়ে যান কর্ণফুলী নদীতে। সাথে ছিলো শুক্কুর ও মুসলিম নামে দুইজন। সাম্পানে ঘুরে সন্ধ্যা হয়ে এলে শুরু হয় পরিকল্পনা মতো কাজ। রাজা মিয়া স্ত্রীর মুখ চেপে ধরেন ও অপরজন রশি দিয়ে গলা পেচিয়ে ধরে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ বস্তাবন্দী করে ফেলে দেয়া হয় পানিতে।
পিবিআই’য়ের পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘নৌকায় করে তারা ভ্রমণের জন্য বের হয়। সন্ধ্যার পরে দেখা যাচ্ছে একটু সন্ধ্যা লেগে গেছে, তখনই কিন্তু ওই মহিলার সঙ্গে উচ্চবাচ্য করে, মানে তারা একটা তর্কে জড়ায়। জড়িয়ে তার মোবাইলটা নিয়ে পানিতে ফেলে দেন, দিয়ে তখন তার গলা চেপে ধরেন। ধরে তারা জোর রশিতে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।’
পরে এই ঘটনায় জান্নাতুলের মা বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় মামলা করলেও তদন্তে নামে পিবিআই। এসময় আসামীদের গ্রেফতার করে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যার স্থান চিহ্নিত ও হত্যাকাজে ব্যবহৃত নৌকাটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আসামী মুসলিমকে টেকনাফ থেকে ও শুক্কুর আহম্মদকে কর্ণফুলী থেকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। তবে গ্রেপ্তার হননি পাষণ্ড স্বমী রাজা মিয়া।
মেট্রো পিবিআই’য়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. মুস্তাফিজুর বলেন, ‘অজ্ঞাতনামা আসামিকে কিছু টাকা পে করেছে রাজামিয়া এবং এর অংশ হয়তো মুসলিমও পেতে পারে, কিন্তু মুসলিম সেটা অস্বীকার করেছে। তবে বলেছে যে, অজ্ঞাতনামা আসামি প্রায় ৩০,০০০ প্লাস ৩ হাজার টাকা দিয়েছে, এটা আমরা শুনেছি।’
এদিকে, চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চুরির অভিযোগে ইমন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার একটি পান-সিগারেটের দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে ইমনকে মারধর করে আসামীরা।





