আজ (রোববার, ২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে জেলার হেডম্যান কারবারীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাজেকে চলমান আন্দোলন ও উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে করণীয় নির্ধারণে জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি খাগড়াছড়ির এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়া সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন।
সভা শেষে গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘সাজেকে চলমান সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। রাঙামাটি তিনজন হেডম্যান ও কারবারিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ উদ্যোগে খাগড়াছড়ির হেডম্যান ও কারবারিরাও সম্পৃক্ত থাকবেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার আয়োজন করা হবে। তিনি সাজেকের চলমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং পর্যটনশিল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংকটের সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান ও কারবারিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, ‘সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। তবে পাঁচ দফা দাবি যারা জানিয়েছে, তারা কারা— তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। যে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে, তারা কারা? আমরা কাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবো? তারপরও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। আমরা স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই সাজেক সংকট থেকে উত্তরণের উপায় বের করা হবে।’
সভায় সাজেকে আন্দোলনকারীদের মধ্যে হেডম্যান-কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানার ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত ওই ব্যানার তাদের নয়। প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে কারবারিদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী রাঙামাটি এমপি দীপেন দেওয়ান। এছাড়া রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং রাঙামাটির হেডম্যান ও কারবারিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে তিন দফা দাবিতে তৃতীয় দফায় রাঙামাটি সাজেক সড়কে চলা ইউপিডিএফের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের চতুর্থ দিন চলছে আজ। তবে সকাল থেকেই সড়কটিতে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচির সমর্থনে কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। নতুন করে কোন সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। সাজেকে যানবাহন চলাচল ও পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।
মূলত তিন দফা দাবি জানিয়ে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাস ও উৎপাতের প্রতিবাদে তৃতীয় দফায় এই কর্মসুচি ঘোষণা দেয় ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’।
এর আগে, গেলো ১১ ও ১৫ অক্টোবর থেকে দুই দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। তবে দুর্গাপূজার কারণে ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিলো। একই দিন ১১ অক্টোবর দেয়া সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক। আজ ৫ দিনের সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় আবারও একই কর্মসুচি শুরু করে পাহাড়ি সংগঠন দুটি।
রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র সাজেকের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ অবস্থায় সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।





