গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ, সৌদি আরবের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে নিহতের গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় শনাক্ত হওয়া পাঁচজন হলেন—নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁ এলাকার মজনু রহমানের ছেলে শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের নাজমুল হুদার ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামানিকের ছেলে মিনহাজ প্রামানিক, মাধবপুর গ্রামের মজনু সরদারের ছেলে মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাগর আলী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকান্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী মারা যান। এর মধ্যে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর গত ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ বাংলাদেশে আসে। নয়জনের মধ্যে নওগাঁর সাতজন। বাকিদের শরীর আগুনে পুড়ে যাওয়ায় শনাক্ত করতে বিলম্ব হয়।
আরও পড়ুন:
পরে বাকি সাতজনের মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁর পাঁচজন। মরদেহ বাংলাদেশে প্রেরণের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শনিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৩৬ নম্বর ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ধার-দেনা করে ৬-৮ বছর আগে নওগাঁর বিভিন্ন গ্রামের ১৬ যুবক সৌদিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সৌদি আরবে রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় শ্রমিকের কাজ করছিলেন তারা।
গত ৯ আগস্ট দুপুরে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে কারখানায় থাকায় ১৬ জন মারা যান। এ ঘটনার পর নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা চোখে-মুখে অন্ধকার দেখা শুরু করে। নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষা করছিলেন স্বজনরা।
স্থানীয়রা জানান—উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের যুবকরা সৌদিতে কর্মসংস্থানের জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন। যারা নিতান্ত দরিদ্র ও অসহায় পরিবারে। অনেকে ঋণগ্রস্ত। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিতে হারিয়ে দিশেহারা তারা। ঋণ পরিশোধে দুশ্চিন্তায় পড়েছে নিহতের পরিবার। ঋণ পরিশোধসহ ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সহযোগিতা দাবী এলাকাবাসীর।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নিহত পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওয়েজ অনার্স বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহগুলো দ্রুত দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাঁচজনের মধ্যে চারজনের বাড়ি আত্রাই উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলায়। মরদেহের গাড়ি উপজেলায় আসতে বিকেল প্রায় ৪টা বাজতে পারে। এরপর নিহতের স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে স্ব স্ব এলাকায় নামাজে জানাজা শেষে কবরস্থ করা হবে।’
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনের মধ্যে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকার ১২ জন। বাকিদের মধ্যে নাটোর জেলার তিনজন এবং রাজশাহী জেলার একজন।





