Recent event

তরমুজ চাষে ভাগ্য ফিরেছে ফেনীর কৃষকদের

ফেনীর চরাঞ্চলে চাষ হচ্ছে তরমুজ চাষ
ফেনীর চরাঞ্চলে চাষ হচ্ছে তরমুজ চাষ | ছবি: এখন টিভি
0

ফেনীর কৃষি অর্থনীতিতে বড় সম্ভাবনার নাম তরমুজ। চরের আবাদি ও অনাবাদি জমিতে এ অর্থকরী ফসল চাষ করে ভাগ্য ফিরছে কৃষকদের। চলতি মৌসুমে ২৫০ কোটি টাকার বেশি তরমুজ উৎপাদনের আশা কৃষি বিভাগ ও মাঠের কৃষকদের।

ফেনীর উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজীর নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। একসময় জোয়ারের লবণ পানির ঝুঁকিতে চাষাবাদ যেখানে ছিলো অনিশ্চিত, সেখানে এখন ফলছে অর্থকরী ফসল তরমুজ। পরিচর্যায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকেই ঘরে তোলার আশা তাদের।

উপজেলার চরচান্দিয়া, চর দরবেশ, সোনাগাজী সদর, নবাবপুর ও আমিরাবাদের মাঠের পর মাঠে দেখা মিলছে ড্রাগন কিং, জেব্রা কিং, গ্লোরি ড্রাগন, ব্ল্যাক জায়ান্ট, বাংলালিংক, ব্ল্যাক বেরি, ভিক্টর সুগার ও ওশান সুগারসহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের তরমুজের। কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে তরমুজের চাষাবাদ আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হবে।

আরও পড়ুন:

কৃষকরা জানান, ফলন আগের চেয়ে ভালো। আর এ এলাকার মাটির গুনগত মান ভালো থাকায় ফলন বেশ ভালো হচ্ছে।

তবে চরের কৃষকদের দুশ্চিন্তার কারণও আছে। ২০২৪ সালের বন্যায় মুসাপুর ক্লোজার ভেঙে যাওয়ার পর থেকে লবণ পানির জোয়ারে চাষাবাদ ক্ষতির মুখে পড়ছে। তরমুজ চাষ নিয়েও শঙ্কায় তারা। তাই, দ্রুত ক্লোজার পুনর্নির্মাণের দাবি কৃষকদের।

কৃষকরা আরও জানান, ক্লোজার না থাকায় তরমুজ নিয়ে অনেক সমস্যা পরতে হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি মৌসুমে জেলায় তরমুজের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এবার সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সোনাগাজী উপজেলায়। এখানকার চরাঞ্চলে ১ হাজার ১০০ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে রসালো এ ফলের। অন্য উপজেলাগুলোতেও আবাদ বেড়েছে।

ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ বলেন, ‘১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে চাষ হওয়া তরমুজ। আড়াইশো কোটি টাকার মূল্যে বিক্রি করতে পারবে। যেখানে হেক্টরে প্রায় বিশ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবে। প্রতি টন আমরা যদি পঞ্চাশ হাজার টাকা করে ধরি। বলা যায় তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। আশাকরা যায় আগামীতে চাষ আরও বাড়বে।’

গত মৌসুমে ফেনীর তরমুজের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি তরমুজের গড় মূল্য কমপক্ষে ৫০ টাকা ধরে বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকার বেশি ছাড়াবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

জেআর