মহানন্দায় রাবার ড্যাম প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি ব্যবস্থা

মহানন্দায় রাবার ড্যাম প্রকল্প
মহানন্দায় রাবার ড্যাম প্রকল্প | ছবি: এখন টিভি
0

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে মহানন্দা নদীতে নির্মিত রাবার ড্যাম প্রকল্প। দীর্ঘদিন শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে যেখানে বিস্তীর্ণ জমি অনাবাদি থাকতো, সেখানে এখন সবুজে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ। রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে নদীতে সংরক্ষিত পানি সরাসরি ব্যবহার করা যাচ্ছে সেচকাজে। অন্তত ৭ হাজার হেক্টর কৃষি জমি সুবিধা পাচ্ছে বলে দাবি কৃষি বিভাগের।

রাবার ড্যাম প্রকল্পের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানির স্থায়ী সংরক্ষণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি এনেছে।

সদরের বালিয়াডাঙ্গার যাদুপুর গ্রামের গোপাল চৌধুরী গত পাঁচ বছর ধরেই মহানন্দার তীরে ধান চাষ করছেন। আগে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে নানা বিপত্তিতে পড়লেও চলতি মৌসুমে সে সমস্যায় পড়েননি।

গোপাল চৌধুরী বলেন, ‘এই চরে একবারেই ফসল চাষাবাদ করা যেত। এখন আমি দুইবার ফসল আবাদ করতে পারছি।’

চাষিরা বলছেন, মাত্র দুই বছর আগেও সেচের জন্য গভীর নলকূপ ও ডিজেলচালিত পাম্পের অতিরিক্ত জ্বালানি খরচে চাষাবাদ হয়ে উঠত ব্যয়বহুল। কিন্তু মহানন্দায় নির্মিত রাবার ড্যামেরর কারণে তাদের উৎপাদন খরচ কমেছে। রাবার ড্যাম হওয়ায় আগের চেয়ে অনেক বেশি ফসল আবাদ করতে পারছেন বলে জানান চাষীরা।

আরও পড়ুন:

প্রকল্পটির সুফল পৌঁছেছে সাধারণ মানুষের ঘরেও। নদীতে পানি ধরে রাখার ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে উন্নতি এবং বাসাবাড়িতে পানির প্রাপ্যতা বেড়েছে।

প্রকল্পের সুফল পড়েছে প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকার কৃষি জমিতে-দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমি বলে জানালেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, ‘এ পানি ধরে রাখার ফলে আশপাশের এলাকার সবাই চাষে বাদে ব্যবহার করতে পারছে। এর ফলে বিশাল একটা এলাকা সেচের আওতায় চলে এসেছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘রবি মৌসুমে ফসলে জন্য সেচের সুবিধা হচ্ছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ‍ওপর চাপ কমছে। যার ফলে কৃষকদের খরচও কমছে।’

মহানন্দা নদীতে ২০২১ সালের নভেম্বরে ২৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হয় রাবার ড্যাম প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের জুনে।

জেআর