গাছজুড়ে থাকা বারোমাসি বড়ই, কোনটি সবুজ আবার কোনটি পেকে হলুদাভাব। সাধারণত শীতের মৌসুমে বড়ইয়ের দেখা মিললেও এই বাগানে ফলন এসেছে অসময়ে।
বারোমাসি জাতের বড়ই চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন যশোরের ঝিকরগাছার নাভারন গ্রামের কৃষক মোশাররফ হোসেন। সাতক্ষীরা থেকে চারা এনে দুই বিঘা জমিতে বারোমাসি বড়ই চাষ করেন। এই বড়ই এখন হয়ে উঠেছে তার আয়ের প্রধান উৎস।
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘চারা উৎপাদন করতেছি। সব মিলিয়ে এখন যে কুলগুলো আপনারা দেখছেন এবং যেভাবে আমরা হারভেস্ট করছি এবং বিক্রি করতেছি, দামও মোটামুটি ভালো। সবকিছু মিলায়েই এই চাষটা মোটামুটিভাবে আর কি করা যায়। আর বাংলাদেশে যেহেতু প্রথম আর প্রথমেই ভালো একটা চাহিদা থাকে।’
ভালো দাম পাওয়ায় মোশাররফের মতো অনেক কৃষকই আগ্রহী হয়েছেন বারোমাসি বড়ই চাষে। বড়ই বাগানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও।
আরও পড়ুন:
কৃষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘তো খরচ লাখখানিক টাকা। আশা করি লাখ, দু লাখ আড়াই লাখ টাকা এক সিজনে বেচার একটা আশা আছে।’
অন্য একজন বলেন, ‘যেভাবে গাছগাছালির বাড়ছে বা ফুল-ফল আসছে, তাতে করে অনেক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। এটা টোটাল ১২ মাসই পাওয়া যায়। আর এটার চাহিদাও বেশি, দামও বেশি।’
সঠিক জাত নির্বাচন, সময়মতো পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই চাষ লাভজনক হতে পারে। নতুন উদ্যোক্তাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা পরামর্শ দেয়া হয় বলে জানালেন কর্মকর্তা।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুলতানা আফরোজ বলেন, ‘বড়ই চাষ সম্পর্কিত চাষাবাদ পদ্ধতি, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ, রোগবালাই দমন—এগুলো সম্পর্কে সবসময় তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি এবং তারা যাতে সঠিক সময়ে ফলটা সংগ্রহ করতে পারে এবং বাজারজাত করতে পারেন, সে বিষয়েও আমরা তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’
একসময় মৌসুমী ফল বড়ই এখন প্রযুক্তি আর উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টায় বারোমাসি বড়ই চাষে কৃষকরা প্রমাণ করেছেন, পরিকল্পনা, পরিশ্রম আর সঠিক কৃষি পরামর্শ থাকলে কৃষিতেও তৈরি করা যায় নতুন সম্ভাবনা।




