এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আজ (বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দাদপুর গ্রামের কয়েকশ মানুষ জুটমিলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মিল ছুটির আগে সজিব ও রিহাদ (১৩) হাওয়ার মেশিন দিয়ে মিলের আঙিনা পরিষ্কার করছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসময় দুষ্টুমির ছলে রিহাদ উচ্চচাপের হাওয়া সজিবের পায়ুপথে প্রবেশ করায়। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
মিল কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় অস্ত্রোপচার করা হলেও ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন:
নিহত সজিবের বাড়ি দাদপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামে এবং অভিযুক্ত রিহাদের বাড়ি বোয়ালমারী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে। দু’জনই জনতা জুটমিলের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো।
তবে ঘটনার পর মিলের ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে মিল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করানো এবং তদারকির অভাবেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাস্থল তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান অভিযুক্ত রিহাদ পলাতক থাকায় তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সজিবের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা থেকে এখনো গ্রামের বাড়িতে আসেনি। মরদেহ আসার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হবে। তবে লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় জমা দেয়নি কেউ।’
এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে ক্ষোভের পাশাপাশি মিলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শিশুশ্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ বছর বয়সী দুই কিশোর কিভাবে ভারী শিল্পকারখানায় কাজ করছিল-তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। শ্রম আইন ও কারখানার নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।





