আজ (সোমবার, ১৬ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষীপুর এলাকার স্টেশন মাছ বাজারের পশ্চিম পাশে মুরাদের মাংসের দোকানের সামনে রাজু শেখ (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা ছবি খাতুন (৫৫) বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত রাজু শেখ মূলত মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি স্টেশন বস্তি এলাকার কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রি করতেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পরিবার তাকে বারবার নিষেধ করলেও তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যান। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো।
আরও পড়ুন:
তদন্তে আরও জানা যায়, প্রায় ৮-৯ মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে তার ছোট ভাই মো. ইব্রাহীম শেখ রাজুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছিল। এরপর থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতা চলছিল।
ঘটনার তিন দিন আগে রাজু আবার ইব্রাহীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দেয় এবং গলায় ছুরি চালানোর চেষ্টা করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইব্রাহীম তার ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
এ পরিকল্পনায় অংশ নেয় হৃদয়, সাকিব, রবিউল, মারুফ ও স্বপ্নসহ আরও কয়েকজন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন তারা স্টেশন মাছ বাজার এলাকায় গিয়ে রাজুকে ডেকে আনে এবং ইয়াবা চাওয়ার কথা বলে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে হৃদয় রাজুকে পেছন থেকে ধরে ফেলে।
তখন ওৎ পেতে থাকা অন্যরা চাপাতি ও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। রাজু নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে সবাই পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের অভিযানে এজাহারভুক্ত অমিত রায়, নুর ইসলাম, মেহেরুন নেছা ও হৃদয়সহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পাবনার সাথিয়া থানা এলাকা থেকে এবং একজনকে স্টেশন বস্তি এলাকা থেকে আটক করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) ভোরে কোতয়ালী থানার ১ নম্বর হাবেলী গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় বায়তুল মামুর জামে মসজিদের পাশে রেললাইনের উত্তর পাশে গাছের পাতার নিচে লুকিয়ে রাখা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি চাপাতি ও একটি স্টিলের ছোরা উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজু শেখ হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাহিমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





