কুমিল্লায় ৬ মাসে ৭৩ খুন: কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের দাপটে বাড়ছে উদ্বেগ

হামলা ও ছিনতাইয়ের ভিডিও ফুটেজ
হামলা ও ছিনতাইয়ের ভিডিও ফুটেজ | ছবি: এখন টিভি
0

কুমিল্লায় গত ৬মাসে ৭৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ২৮টি ডাকাতি ও ২৪৪টি চুরির ঘটনাও ঘটেছে। সমাজে প্রতিবছর ১০শতাংশ নতুন অপরাধ সৃষ্টি হচ্ছে। অপরাধীরা আইনের ফাঁক-ফোকরে বেরিয়ে এসে আবারও জড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। কিশোর গ্যাং উৎকণ্ঠা ছড়াচ্ছে প্রতিটি পাড়া মহল্লায়।

রাতে কোলাহল কমতে থাকলে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের উৎপাত বাড়ে শহরের নির্জন সড়কে। সম্প্রতি ছিনতাইকারীদের নৃশংসতায় প্রাণ হারান কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। ছিনতাইকারীরা কখনও যাত্রী, কখনও আবার চালকের ছদ্মবেশে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

অপরাধ বিনষ্ট করছে সামাজিক স্বস্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বেশ কিছু অপরাধ চিত্রের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বুঝা যায়, অপরাধ একই আছে তবে স্থান-কাল ভেদে ধরন পাল্টাচ্ছে। পুলিশের গাড়িতে হামলা, বাড়ি থেকে কিশোরীকে অপহরণ কিংবা চোরাকারবারিদের ফুটেজ ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে জনমনে।

তবে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও শাস্তি কার্যকর করার দৃষ্টান্ত অপরাধ নিভৃত করতে পারে বলে মতামত বিশ্লেষকদের। অপরাধের অনুকূল পরিবেশ বিনষ্ট করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ তাদের।

বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. নায়ীম আলীমুল হায়দার বলেন, ‘তারা ভাবছে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বা সার্ভিলেন্সের বিষয়টা একটু শিথিলতা আছে, তারা হয়তো অপরাধ করে সহজে পার পেয়ে যাবে। এই ক্ষেত্রে এই বিভিন্ন ধরনের অপরাধগুলো ঘটে থাকতে পারে বলে আমি মনে করি।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, ‘বিচার বিভাগের দীর্ঘসূত্রতা আছেই। এখানে একটা মামলা দায়ের হওয়ার পরে অনেকগুলো স্টেপ পার হয়ে সেটা জাজমেন্টের পর্যায়ে যায়। অনেক সময় সাক্ষী পাওয়া যায় না, অনেক সময় বেশ কিছুদিন পরে ঘুরার কারণে দেখা যাচ্ছে যে বাদী-বিবাদী কম্প্রোমাইজ হয়ে গিয়েছে—এই ধরনের নানান জটিলতার কারণে আসলে বিচারগুলো দ্রুত করা যায় না।’

প্রতিবছর নতুন ১০শতাংশ অপরাধ সৃষ্টি হয়। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। অপরাধীরা আটকের পর আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়াতে হবে- বলছেন জেলা পুলিশ সুপার। আর জেলা পিপি মনে করেন, জনসংখ্যার আধিক্য অনুযায়ী অপরাধ খুব বাড়েনি। তবে নিয়ন্ত্রণে সবার প্রচেষ্টা বাড়ানোর মত দেন তিনি।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের রেগুলার অভিযানের মধ্যে আমাদের অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের টিম কাজ করে একটা। কিশোর গ্যাংও আমরা প্রচুর গ্রেপ্তার করেছি। আমরা ধরছি, আমরা মামলায় চালান দিচ্ছি, আবার আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বের হয়ে আসে। এখন এটা আসলে আমাদের পুলিশের জন্য আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং ও কষ্টের হয়ে যায়।’

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, ‘পরিস্থিতি এত আশঙ্কাজনক না, যেটা আমরা শুনছি। আসলে গ্রাফে তা বলে না। তবে আমাদের কাছে উদ্বেগজনক যে বিষয়টা হলো যে মাদকের বিষয়টা এবং কিশোর গ্যাং।’

অপরাধের ধরন বদলালেও মানুষের উদ্বেগ কমেনি। আইনের প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং সামাজিক সচেতনতাই ভূমিকা রাখতে পারে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে।

ইএ