এ ঘটনায় আজ (মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম (২৫) বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকায় বসবাস করেন এবং দৈনিক মজুরিতে ঢালাই মেশিনের ক্রেন চালকের কাজ করেন।
গত ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা বউ বাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাত প্রায় ১১টার দিকে সিআইখোলা মোড়ের পূর্ব পাশে একটি মসজিদ সংলগ্ন অজ্ঞাত দোকানঘরে আটকে রাখা হয়।
এসময় অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা ও দেশিয় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রফিকুল ইসলামের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে দুই লাখ টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
একপর্যায়ে তার পকেটে থাকা ৫ হাজার ৩৬০ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। পাশাপাশি টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পর দিন ৪ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে কৌশলে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তিনি তার চাচা মো. হাদিসকে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং বিকাশের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা পাঠানোর কথা বলেন।
এদিকে রফিকুলের চাচা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ সিআইখোলা মোড় এলাকা রফিকুলকে উদ্ধার করে।
পরে তার দেয়া তথ্যর ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এসময় আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. রমজান আলী (২৩), মো. আল আমিন (২২), মো. জিহাদ (২৬), মো. গোলাম কিবরিয়া জয় (২১), রবিউল ইসলাম (২৪), মো. জাহাঙ্গীর (২৩) এবং মো. আরমান (২২)।
পুলিশ জানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য এবং বিভিন্ন সহজ-সরল মানুষকে কৌশলে ডেকে এনে অবরুদ্ধ করে মুক্তিপণ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উদ্ধারের পর রফিকুল ইসলামকে থানা পুলিশের সহায়তায় নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলার এজাহারনামীয় তিন নাম্বার আসামি জিহাদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতজনকে এজাহারনামীয় সহ আরও অজ্ঞাত দুই তিন জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এজাহারনামীয় সাতজনকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’





